নির্বাচনের অযোগ্য মাহমুদুর রহমান মান্না! রিট খারিজ করল হাইকোর্ট
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের পথ বন্ধ হয়ে গেল বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি মো. মনজুর আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে মান্নার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান।
আদেশের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, "মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণখেলাপির তালিকায় রয়েছেন। সেই তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে তিনি রিট করেছিলেন। কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন। বর্তমান অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।" তবে মান্নার আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া জানিয়েছেন, তারা এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও ঋণের বিবরণ: নথি থেকে জানা যায়, মাহমুদুর রহমান মান্না ও তার অংশীদারদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড’ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া বড়গোলা শাখা থেকে বড় অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করে। ২০১০ সালে ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগ অনুমোদন করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে মুনাফা, চার্জ ও জরিমানা পরিশোধ না করায় বর্তমানে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।
এ ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে গত ১০ ডিসেম্বর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মাহমুদুর রহমান মান্না ও তার অংশীদারদের বিরুদ্ধে ‘কল ব্যাক নোটিশ’ জারি করে। ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও তা পরিশোধ করা হয়নি।
অংশীদারিত্ব ও ব্যাংকের বক্তব্য: আফাকু কোল্ড স্টোরেজে মাহমুদুর রহমান মান্নার ৫০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। বাকি ২৫ শতাংশ করে শেয়ার রয়েছে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরী এবং তার স্ত্রী ইসমত আরা লাইজুর।
ইসলামী ব্যাংক বগুড়া বড়গোলা শাখার প্রধান তৌহিদ রেজা জানান, প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও চুক্তি অনুযায়ী তারা ঋণ পরিশোধের কোনো উদ্যোগ নেননি। ফলে ব্যাংক আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছে।
আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ঋণখেলাপি হলে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারান। হাইকোর্টের আজকের এই আদেশের ফলে মাহমুদুর রহমান মান্নার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্তে বড় ধরনের আইনি বাধা তৈরি হলো।
আপনার মতামত লিখুন :