• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

আজ থেকে শুরু হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা


FavIcon
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩১
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার:
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বারের মতো আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই, ২০২৬) থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে এবারের পরীক্ষা আরও বেশি গ্রহণযোগ্য, নকলমুক্ত ও মানসম্পন্নভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

​প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে কুরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসির (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সব বোর্ডে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ করতে হয়েছে।

সারাদেশে এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে। সব বোর্ডে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে এবং পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ করতে হবে।

সারাদেশের এই কর্মযজ্ঞের মধ্যে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় এবার পরীক্ষার্থী সংখ্যা বেড়েছে। যশোর বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বোর্ডের অধীনে থাকা ৫৭০টি কলেজের মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ১৭৭ জন পরীক্ষার্থী ২৪০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসছেন। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩৬৮ জন।

যশোর বোর্ডের মোট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৮০ হাজার ৩৬৫ জন এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থী রয়েছেন ৩৫ হাজার ৮৫৩ জন। সামগ্রিক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এবারও ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। ৬০ হাজার ১৮৯ জন ছাত্রী এবং ৫৬ হাজার ৯৯৮ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, অর্থাৎ ছাত্রদের চেয়ে ৩ হাজার ২০১ জন ছাত্রী পরীক্ষার্থী বেশি। জেলাওয়ারী হিসাবে সবচেয়ে বেশি ২৩ হাজার ৫৪৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন খুলনা জেলার ৪৮টি কেন্দ্রে। ১৯ হাজার ৭৯১ জন পরীক্ষার্থী নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যশোর জেলা। আর সবচেয়ে কম ৩ হাজার ৯১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন মেহেরপুর জেলার ৮টি কেন্দ্রে।

বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ জানিয়েছে, সুষম বণ্টন ও যৌক্তিকতার ভিত্তিতে এবার ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ কেন্দ্রসহ মাগুরার বেশ কয়েকটি ভেন্যু ও অতিরিক্ত কেন্দ্র বাতিল করে নতুন ১০টি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার মাত্র এক সপ্তাহ আগে বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ সব পদে পরিবর্তন আসায় অভিজ্ঞতার ঘাটতি ও বাড়তি কাজের চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র স্বীকার করেছে। অবশ্য যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, সব চাপ সামলে নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক থাকবেন এবং ৫ বাই ৬ ফুটের বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুজন ও ৪ ফুটের বেঞ্চে একজন করে পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন। পরীক্ষা শুরুর অন্তত তিন দিন আগে লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র যাচাই এবং পরীক্ষার দিন সকালে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই কেবল প্রশ্নপত্র খোলার নিয়ম করা হয়েছে।

এবারই প্রথম পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগসহ সিসিটিভি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যার আইডি ও পাসওয়ার্ড শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে হয়েছে। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না এবং পরীক্ষার্থীরা কেবল সাধারণ কাঁটাযুক্ত ঘড়ি ছাড়া কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখতে পারবেন না।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁস কিংবা পরীক্ষা ঘিরে যেকোনো ধরনের গুজব বা অপরাধ রুখতে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জরুরি যোগাযোগের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুমও (টেলিফোন: ০২-২২৩৩৬৯৮১৫) চালু করা হয়েছে।