• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রম নির্মূলের আহ্বান টিআইবি’র: সুশাসনের ঘাটতি ও সিন্ডিকেট নিয়ে উদ্বেগ


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:০৯
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার :
 বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য নীতিগত অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রমের ব্যবহার একটি গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সম্প্রতি এক ধারণাপত্রে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এই তথ্য প্রকাশ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রমের অবসান ঘটাতে দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার ও সুশাসন নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।
জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২-এর তথ্য উল্লেখ করে টিআইবি জানায়, দেশে বর্তমানে ১৭.৮ লাখ শিশু শ্রমে নিয়োজিত, যার মধ্যে ১০ লাখেরও বেশি শিশু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে রয়েছে। এর একটি বড় অংশ নিয়োজিত রয়েছে অপ্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে। ডাম্পসাইট ও রাস্তাঘাট থেকে কোনো প্রকার সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (যেমন- গ্লাভস বা মাস্ক) ছাড়াই শিশুরা প্লাস্টিক, মেডিকেল বর্জ্য ও ই-বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করছে। ফলে তারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি, ধারালো বস্তুর আঘাত এবং নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগব্যাধির সম্মুখীন হচ্ছে।
গৃহস্থালী বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা প্রাইমারি কালেকশন সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিসিএসপি) নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। টিআইবি অভিযোগ করেছে, সিটি কর্পোরেশনগুলো প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে পিসিএসপি-কে টেন্ডার দিলেও, এই প্রক্রিয়ায় একটি শক্তিশালী দুর্নীতির সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। প্রায়শই ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ওয়ার্ড কাউন্সিলররা এই কাজ বরাদ্দ পেয়ে থাকেন। চুক্তিতে শিশুশ্রম নিষিদ্ধের শর্ত থাকলেও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর নজরদারি বা তদারকি করা হয় না।
এই খাতের শিশুশ্রম সম্পূর্ণ নির্মূলে টিআইবি বেশ কিছু জরুরি সুপারিশ পেশ করেছে:
​কর্মপরিকল্পনা হালনাগাদ: জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত এটি হালনাগাদ করা এবং শিশুদের পুনর্বাসনে বিকল্প কর্মকৌশল তৈরি করা।

​তদারকি জোরদার: সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাকে ক্ষমতাধীনের মাধ্যমে ওয়ার্ড-ভিত্তিক কঠোর নজরদারি এবং ডাম্পিং সাইটগুলোতে বিশেষায়িত 'শিশুশ্রম পর্যবেক্ষণ ইউনিট' গঠন করা।

​হটলাইন চালু: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমের যেকোনো ঘটনা সরাসরি জানাতে নাগরিকদের জন্য একটি ডেডিকেটেড হটলাইন সেবা চালু করা।
​শ্রম আইন প্রয়োগ: বর্জ্য সংগ্রহে নিয়োজিত অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মীদের মূলধারায় আনা এবং শিশুশ্রম নির্মূলে শ্রম আইন, ২০০৬-এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

​টিআইবি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উদাসীনতাকে 'লাল কার্ড' প্রদর্শনের যোগ্য বলে অভিহিত করেছে এবং অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সনাক যশোরের সভাপতি অধ্যক্ষ পাভেল চৌধুরী, সহ-সভাপতি অ্যাড. কামরুন নাহার কমা, অ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলু, সদস্য প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যক্ষ শাহিন ইকবাল প্রমুখ।