নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও অনিয়মের প্রতিবাদে ১১-দলীয় জোটের বিশাল বিক্ষোভ
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩:৫২
স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, নারী নির্যাতন এবং ভোটের ফলাফলে কারচুপির প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে ১১-দলীয় ঐক্য জোট। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে জোটের নেতারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনরায় অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্টদের ফ্যাসিবাদের মতোই ভয়াবহ পরিণতি বরণ করতে হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ যে স্বপ্নের প্রতিফলন দেখতে চেয়েছিল, তা নির্বাচনের ম্যানিপুলেশন ও পরবর্তী সহিংসতা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। অনিয়মের নির্বাচনে জিতে হামলা ও ধর্ষণ আমাদের আবার ফ্যাসিবাদের কালো দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।” তিনি নির্বাচন কমিশনকে কোনো টালবাহানা ছাড়াই অনিয়মের তদন্ত করার আহ্বান জানান এবং স্পষ্ট করে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডের বিচার ও নতুন রাষ্ট্র গঠনের সনদ (জুলাই সনদ) মেনে নিতে হবে; একচুল পরিবর্তনও জনগণ মেনে নেবে না।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেন, সারাদিন শান্তিপূর্ণ ভোট হলেও টার্গেটকৃত প্রার্থীদের ঠেকাতে ‘ডিপস্টেট ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নারীদের ওপর পৈশাচিকতা ও বাড়িঘর জ্বালানোর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর চেষ্টা চলছে। যারা ফ্যাসিবাদের পথ তৈরি করবে, তাদের গন্তব্য হবে দিল্লি।”
সমাবেশে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু টিআইবি রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কলঙ্ক মোচনের দাবি জানান। অন্যদিকে, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং জাগপার রাশেদ প্রধান অভিযোগ করেন, পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ‘ম্যানেজ ভোট’ করা হয়েছে। বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, “পার্লামেন্টে যে ভোট ডাকাতরা গেছে, তাদের জবাব রাজপথেই বুঝিয়ে দেবে ১১ দল।”
সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ, এলডিপি নেতা ওমর ফারুক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা প্রত্যেকেই শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং সারা দেশে বিরোধী নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধের জোর দাবি জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। জোট নেতারা ঘোষণা করেন, দাবি আদায় ও জনগণের অধিকার রক্ষায় তাদের রাজপথের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :