• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যশোরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের কাছ থেকে বিএনপি নেতাকে ছিনতাই!


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬, ০০:৫৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর
যশোরের শার্শা উপজেলায় পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে জখম করার মামলার প্রধান আসামি ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে তীব্র তোপের মুখে পড়েছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে 'মব' (জনতা) সৃষ্টি করে পুলিশের কাছ থেকে ওই আসামিকে ছিনিয়ে নেয় তাঁর সমর্থকেরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। এই ঘটনায় শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকেলে শার্শা থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি যৌথ দল শ্যামলাগাছি গ্রামে অভিযান চালায়। তারা ওই গ্রামের মোড় থেকে শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে।

মিন্টুকে গ্রেপ্তারের পরপরই তাঁর সমর্থকেরা গ্রামের একাধিক মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে প্রতিরোধের আহ্বান জানান। মাইকের ঘোষণা শুনে মুহূর্তের মধ্যে কয়েক শ নারী-পুরুষ সেখানে জড়ো হন এবং পুলিশ সদস্যদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও গণ-জমায়েতের সুযোগ নিয়ে মিন্টুকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, হামলার শিকার মামুন হাসান জুয়েল ট্যুরিস্ট পুলিশের হেডকোয়ার্টারে নায়েক পদে কর্মরত। তিনি কোরবানির ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। গত ২৯ মে বিকেলে মোটরসাইকেলযোগে শার্শা বাজারে যাওয়ার পথে শ্যামলাগাছি গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁর পথ রোধ করা হয়। এরপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে জখম করা হয়।

এই ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই মেহেদী হাসান রয়েল গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শার্শা থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলারই প্রধান আসামি করা হয়েছিল বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টুকে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—মিন্টুর ভাই লাল্টু হোসেন ও পিন্টু হোসেন, সুজন হোসেন, সবুজ হোসেন এবং টিটন হোসেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টু দাবি করেন, "পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না। ওয়ারেন্ট ছাড়াই জোরপূর্বক পুলিশ আমাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে মুক্ত করে। পুলিশ টাকা খেয়ে প্রভাবিত হয়ে অপেশাদার আচরণ করেছে।"

অন্যদিকে শার্শা থানা-পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে এবং মোস্তফা কামাল মিন্টু ওই মামলার প্রধান আসামি। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে গেলে স্থানীয়ভাবে মব সৃষ্টি করে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই সরকারি কাজে বাধা ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"