• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

শেষ দিনে রোমাঞ্চকর জয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬, ১৩:০৩
ছবির ক্যাপশন: ad728

ক্রীড়া প্রতিবেদক:
মিরপুর টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের প্রতিরোধ গড়ে তোলা শতকছোঁয়া জুটি ভেঙে শেষ বিকেলে স্বস্তি নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরেছে স্বাগতিকেরা। চতুর্থ দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩১৬ রান তুলেছে পাকিস্তান। ইনিংস ব্যবধান এড়াতে এখনো ১২১ রান প্রয়োজন তাদের, হাতে রয়েছে মাত্র ৩টি উইকেট। আর ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়তে শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত ৩টি উইকেট।

এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭৮ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান সংগ্রহ করে। জবাবে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে করে ২৩২ রান।

চতুর্থ ইনিংসে পাহাড়সম রান তাড়া করতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে কোনো রান না করেই মাঠ ছেড়েছিল পাকিস্তান। চতুর্থ দিনে দুই পাকিস্তানি ওপেনার শুরুটা দেখেশুনেই করেছিলেন। তবে ইনিংসের ১১তম ওভারে পাকিস্তান শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন গতি তারকা নাহিদ রানা। রানার করা অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে আব্দুল্লাহ ফজল গতির কাছে পরাস্ত হয়ে গালিতে মেহেদি হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন। মিরপুরে অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি করা এই ওপেনার এবার ফেরেন মাত্র ৬ রানে।

দলীয় ১৪ রানের ব্যবধানে দ্বিতীয় ওপেনার আজান আওয়াইসকে (২১) প্যাভিলিয়নের পথ দেখান স্পিনার মিরাজ। পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করার চেষ্টা করলেও বল লাইনে না থাকায় আম্পায়ার্স কলে এলবিডব্লিউর শিকার হন তিনি। ৪১ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর দলের হাল ধরেন বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ।

অভিজ্ঞ এই দুই ব্যাটারের জুটি যখন বিপজ্জনক হয়ে উঠছিল, তখনই দৃশ্যপটে আসেন তাইজুল ইসলাম। ফিফটির দোড়গোড়ায় থাকা বাবর আজমকে ৪৭ রানে সাজঘরে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন তিনি। এরপর পুরো সিরিজ জুড়ে ব্যর্থ সউদ শাকিল এবারও ২১ বল খেলে মাত্র ৬ রান করে নাহিদ রানার দ্বিতীয় শিকার হন। সেঞ্চুরির পথে এগোতে থাকা শান মাসুদকেও (৭১) মাহমুদুল হাসান জয়ের ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন তাইজুল। ১৬২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন চরম বিপর্যয়ে, তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি আজই শেষ হয়ে যাবে।

তবে ষষ্ঠ উইকেটে বাংলাদেশের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ান সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। পিচে কামড় দিয়ে বসে এই জুটি স্কোরবোর্ডে যোগ করে মূল্যবান ১৩৪ রান। অবশেষে শেষ বিকেলে এই প্রতিরোধ ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ৭১ রান করা সালমানকে বোল্ড করে স্বস্তি ফেরান এই বাঁহাতি স্পিনার। সালমানের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে মাত্র ৬ বল টিকতে পেরেছেন হাসান আলি। তাইজুলের ফিরতি ওভারেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। শেষ বিকেলে মাত্র ৮ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট তুলে নিয়ে চালকের আসনে বসে বাংলাদেশ।

চতুর্থ দিনে মিরপুরের উইকেটের স্পিন সুবিধা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৩ রান খরচায় তিনি শিকার করেছেন সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট। এ ছাড়া পেসার নাহিদ রানা ২টি এবং মেহেদি হাসান মিরাজ ১টি উইকেট লাভ করেন। পঞ্চম দিনে ৩ উইকেট হাতে নিয়ে রিজওয়ানের সাথে লড়াইয়ে নামবে পাকিস্তানের লেজকাটা ব্যাটাররা, আর বাংলাদেশ নামবে জয়ের সমীকরণ মেলাতে।