'সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি মুক্ত কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে জামায়াত'
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬, ১১:০০
নিজেস্ব প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলার উদ্যোগে রুকনদের অংশগ্রহণে এক দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত যশোর শহরের বিডি হল-এ এ শিক্ষাশিবিরের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের আদর্শিক চর্চা, সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীলদের করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতেই এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মো. মোবারক হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোবারক হোসেন আমিরে জামায়াতের সাম্প্রতিক জাপান সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, "আমিরে জামায়াত ৭ দিনের জাপান সফর শেষ করে এসেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কাজে নয় বরং রাষ্ট্রের উন্নতিকল্পেই তিনি সময় ব্যয় করেছেন। দেশে কোনো ভালো ক্যান্সার হাসপাতাল না থাকায় তিনি জাপান সরকারের উচ্চপর্যায়ে অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশে একটি ‘ক্যান্সার ইনস্টিটিউট’ তৈরি করার জন্য, যেন শুধু রোগ নিরাময়ই নয়, দেশের চিকিৎসকরাও সেখান থেকে শিখতে পারেন। এছাড়া অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী দেশ জাপানের কাছে তিনি দেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়নের বিষয়ে কথা বলেছেন এবং জাপান সরকার এ বিষয়ে একটি টেকনিক্যাল টিম পাঠাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।"
অতীতের বিরোধী দলগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, "অতীতের মানুষ বিরোধী দল বলতে ১৭১ দিন হরতাল, ওয়াকআউট আর হুমকি-ধমকি দেখেছে। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, ইসলামী বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো শব্দচয়ন বা আচরণ করেননি।"
দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও চাঁদাবাজির চিত্র তুলে ধরে মোবারক হোসেন বলেন, "আমিরে জামায়াত নিজে পাইকারি ও খুচরা বাজারে গিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে নতুন যারা ক্ষমতায় আসছে, তাদেরকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দেওয়া লাগে। যেখানে দোকানের ভাড়া ৭-৮ হাজার টাকা হওয়ার কথা, সেখানে ১ লক্ষ টাকা দেওয়া লাগছে। জুলাইর গণঅভ্যুত্থানকারীরা কি এই চাঁদাবাজির পুনরাবৃত্তি চেয়েছিল?" তিনি আরও বলেন, "পাইকারি বাজারে ৪০ টাকা কেজির করলা খুচরা বাজারে এসে ৮০ টাকা হচ্ছে। এর অর্থ হলো, বাজারে কোনো মনিটরিং নেই এবং সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।"
অর্থনীতি ও আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা বলেন, "বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভঙ্গুর করে রাখা হয়েছে। আমরা এই সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি উচ্ছেদ করে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে চাই। আগামী জুন মাসের বাজেট অধিবেশনে জামায়াতের বিশেষজ্ঞরা অর্থবহ আলোচনা করবেন। আওয়ামী সরকারের সর্বশেষ সাড়ে আট লক্ষ কোটি টাকার বাজেটের ৩৫ শতাংশ টাকাই শেখ হাসিনা পরিবার লোপাট করেছে। তাই মেগা খাতের নামে টাকা মারার বড় বাজেটের প্রয়োজন নেই। বাজেট প্রয়োজনে কম হোক, তবে প্রপার ইউটিলাইজেশনের মাধ্যমে যেন মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত হয়।"
তিনি রুকনদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আমরা একটি অতি দায়িত্বশীল সংগঠন এবং বর্তমানে বিরোধী দলে আছি। অতীতের মতো শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে, সরকারকে সঠিক ট্র্যাকে রাখতে এবং মানুষকে একটি কল্যাণময় রাষ্ট্র উপহার দিতে যা যা করণীয়, ইনশাআল্লাহ আমরা তা-ই করব।"
শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রুকনদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর শায়খ ড. মাওলানা মোহাম্মাদ আব্দুস সামাদ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. আলমগীর। তারা বর্তমান সময়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা আমীর এবং যশোর ৪ আসনের সাংসদ সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— যশোর জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর, সহ-সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, সহ-সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম, ভিপি আব্দুল কাদের, হাসিম রেজা এবং মাওলানা আরশাদুল আলম, শাহাবুদ্দীন বিশ্বাস প্রমুখ।
আপনার মতামত লিখুন :