হরমুজকে মাইনমুক্ত করতে নামছে মার্কিন নৌবাহিনী
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:০৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ পুরোপুরি মাইনমুক্ত করতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। ইরানের পেতে রাখা মাইনের সঠিক অবস্থান এবং এর বহুমুখী বৈশিষ্ট্যের কারণে এই দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে বলে দাবি করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ।
মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ করতে দুটি প্রধান বাধা কাজ করছে। প্রথমত, স্থলভাগের তুলনায় জলপথে মাইন শনাক্ত করা এবং তা ধ্বংস করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া। দ্বিতীয়ত, ইরান এই প্রণালির ঠিক কোন কোন স্থানে মাইন স্থাপন করেছে, তার কোনো নির্ভুল রেকর্ড মার্কিন বাহিনীর কাছে নেই। ফলে প্রথমে মাইন খুঁজে বের করা এবং তারপর তা নিষ্ক্রিয় করার দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তারা।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মার্কিন নৌ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান এই জলপথে চার ধরনের মাইন ব্যবহার করেছে:
- বটম মাইন: যা সমুদ্রের তলদেশে থাকে।
- টেদার্ড মাইন: যা পানির উপরিভাগের কাছাকাছি ভেসে থাকে।
- ড্রিফটিং মাইন: যা পানিতে অবাধে ভেসে বেড়ায়।
- লিম্পেট মাইন: যা সরাসরি জাহাজের খোলে সংযুক্ত হয়ে বিস্ফোরিত হতে পারে।
মার্কিন নৌবাহিনীর অপারেশন্স বিভাগের প্রধান অ্যাডমিরাল ডেরিল কাউডলে রয়টার্সকে বলেন, "জলপথ থেকে মাইন অপসারণ অত্যন্ত ধীরগতির কাজ।" থিংকট্যাঙ্ক সংস্থা হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ব্রায়ান ক্লার্কের মতে, এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৩ সপ্তাহেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই মাইনগুলো স্থাপন করে। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশ বা এক-চতুর্থাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন-ইরান সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি (প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এপ্রিলের পরবর্তী সময়কাল) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি ও ইরানের সামরিক বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির ঘোষণা দেন। এর পরপরই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকোম) মাইন অপসারণের কাজ শুরু করার কথা জানায়।
বর্তমানে এই মাইন আতঙ্কের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং অনেক দেশে তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।
আপনার মতামত লিখুন :