• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, দক্ষ কারিগরের কাজ তুলে দেব: ডা. শফিকুর রহমান


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৫৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, বরং দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে তাদের গড়ে তুলব। আমাদের যুব সমাজকে কেউ চাঁদাবাজ, দখলবাজ বা অস্ত্রবাজ বানাবে—তা আমরা সহ্য করব না। তাদের হাতেই আমরা ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি।”

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজনীতির নামে চাঁদাবাজিকে ‘দুর্বৃত্তপনা’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “চাঁদাবাজি বন্ধ করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠাব না, আমরা নিজেরাও মাঠে নামব। ১২ তারিখের নির্বাচনে জয়ী হলে ১৩ তারিখ থেকেই দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে। যারা মানুষের ওপর বাজপাখির মতো কালো চেহারা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তাদের দমনে আমরা প্রয়োজনে নির্দয় ও নিষ্ঠুর হব।” তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেভাবে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের শিক্ষা দিয়েছেন, সারা দেশের মানুষকে সেভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।

কৃষক কেন পণ্যের দাম পায় না—তার ব্যাখ্যা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “পণ্য ঢাকা পর্যন্ত আসতে আসতে দাম তিন-চার গুণ বেড়ে যায় সিন্ডিকেট আর চাঁদাবাজির কারণে। এতে কৃষক, ভোক্তা ও ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দুর্নীতি আর চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারলে বাংলাদেশ লাফিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে।”

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি ইসি-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আলামত ভালো নয়। মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও জনগণ এখনও আশ্বস্ত হতে পারেনি। আপনারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আস্থা ফেরান, অন্যথায় ব্যর্থতার দায় নিতে হবে।” প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রতি তাঁর পরামর্শ—“গালভরা গণতন্ত্রের কথা না বলে গণতন্ত্রের পথে হাঁটুন। নিজের কর্মসূচি জনগণের কাছে নিয়ে যান, তারা গ্রহণ করলে করবে।”

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আবু সাঈদ বুক পেতে গুলি নিয়ে রক্ত দিয়ে যে আমানত রেখে গেছে, আমাদের তা পূরণ করতে হবে।” ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জামায়াত কর্মীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের নিঃস্ব করে দেওয়া হলেও আমরা কারও ওপর প্রতিশোধ নেইনি, কোনো মিথ্যা মামলা দেইনি।”

সভায় ঢাকা-১২ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলনসহ জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জামায়াত আমির আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তাঁরা দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন উপহার দেবেন।