হানিফ হত্যা মামলায় ২০হাজার টাকা জারিমানা দিয়ে মুক্তি, সাবেক চেয়ারম্যান টুটুল
Swapnobhumi
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ১৫:১৮
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর:
যশোরের বাঘারপাড়ায় হানিফ হত্যা মামলায় জামদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম টুটুল জারিমানা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার মামলার চার্জ গঠন শেষে বাদীর সাক্ষী গ্রহণ ও আসামির দোষ স্বীকারের পর্যালোচনা শেষে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতে বিচারক মো. সালেহুজ্জামান এ আদেশ দিয়েছেন। কামরুল ইসলাম টুটুল বাঘারপাড়ার আমুড়িয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতে এপিপি দিলিপ কুমার চন্দ্র।
মামলার অভিযোগে জানাগেছে, নিহত হানিফ যশোর শহরের লোন অফিসপাড়ার রুস্তম আলীর ছেলে। তিনি যশোর সদরের দাইতলা এলাকায় জমি কিনে সেখানেই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। গত ২০ জানুয়ারি বিকেলে আসামি টুটুলসহ অন্যরা যশোর সদরের ঘোপ এলকায় হানিফের মুরগীর ফার্মে গিয়ে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দেয়ায় হানিফকে খুনের হুমকি দিয়ে যায় আসামিরা। এরপর ২৯ জানুয়ারি সকালে আসামি টুটুল মোবাইল করে হানিফকে দেখা করতে বলে। হানিফ দেখা না করায় এ দিন বিকেলে আসামিরা মুরগীর ফার্মে গিয়ে হানিফকে তুলে নিয়ে জামদিয়া ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে চেয়ারম্যান টুটুলের নিউ ইসলাম ব্রিকসে (এনআইবি) নিয়ে আটকে রাখে। সেখানে হানিফকে মারপিট করার সময় আসামি টুটুলের লাইন্সেকৃত পিস্তল দিয়ে পেটে গুলি করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর অপরিচিত লোকজন হানিফকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। হানিফের অবস্থার অবনতি হওয়ায় স্বজনেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। ৩১ জানুয়ারি চিকিৎসা শেষে হানিফকে যশোরে আনার সময় পথিমধ্যে তিনি মারা যান । এ ঘটনায় ৩১ জানুয়ারি রাতে নিহতের স্ত্রী শিরিন সুলতানা বাঘারপাড়া থানায় টুটুলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত শেষে সাবেক চেয়ারম্যান কামরুল ইষলাম টুটুলকে অভিযুক্ত করে গত ১ জুলাই আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রোকনুজ্জামান।
পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বদলী করা হয়। গতকাল বুধবার এ মামলার চার্জগঠনের দিন ধার্য ছিল। এ দিন মামলার বাদী শিরিন সুলতানা আইনজীবীল মাধ্যমে আসামির সাথে সমঝেতা হয়ে মর্মে আদালতে একটি এফিডেভিট জমা দেন।
বিচারক আসামি কারুজ্জামান টুটুলের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন শেষে বাদীর সাক্ষী গ্রহন ও আসামির দোষ স্বীকারের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর ৩০৪ ধারা অনুযায়ী এক রায়ে আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ব্যর্থতায় ৩ বছর সশ্রম কারাদÐের আদেশ দেন। আসামি কামরুজ্জামান টুটুল তৎক্ষনিক জরিমানার ২০ হাজার টাকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :