এনজিও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হিসাবরক্ষককে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর শাখার ‘সিও’ এনজিও-র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এক হিসাবরক্ষককে আটকে রেখে অমানসিক নির্যাতন, প্রাণনাশের চেষ্টা এবং জোরপূর্বক কোটি টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিত কর্মীর নাম সেলিম রেজা । তিনি যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার স্বরুপদাহ গ্রামের মোঃ হায়দার আলীর ছেলে।
মঙ্গলবার সকালে প্রেসক্লাব এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী সেলিম রেজা। সংবাদ সম্মেলনে তার পিতা হায়দার আলী এবং ভাই রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সেলিম রেজা জানান, তিনি গত দুই বছর ধরে ‘সিও’ এনজিও-র চাঁদপুর শাখায় হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাঠ পর্যায়ে গ্রাহকদের বকেয়া বা অনাদায়ী ঋণ আদায় না হলেও প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে প্রতি মাসে আদায় দেখানো হতো এবং পরবর্তীতে তা সমন্বয়ের আশ্বাস দেওয়া হতো। কিন্তু মাঠ পর্যায় থেকে বকেয়া টাকা আদায় না হওয়ায় সম্প্রতি প্রধান কার্যালয় থেকে ওই টাকার দায় সেলিম রেজার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বুধবার সন্ধ্যায় প্রধান কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক মোঃ বদরুল আলম, এমআইএস অফিসার রাজু আহম্মেদ, ভিজি মোঃ মেহেদী হাসান, অডিট পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান, এইচআর ফয়সাল মাহমুদ সাকি এবং অডিট কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ, মোঃ মিজান ও মোঃ শাহিনসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জন বহিরাগত লোক তাকে অনাদায়ী টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেয়। টাকা আদায়ে অপাগতা প্রকাশ করলে তাকে পরিকল্পিতভাবে ঘরের ভেতর হাত বেঁধে কাঠের চলা দিয়ে পায়ের পাতায় ৬০ থেকে ৭০ বার পেটানো হয় এবং হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
পরবর্তীতে প্রাণ বাঁচাতে তিনি আসামীদের কথা মেনে নিলে, একটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ৩৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা লিখে এবং আরও দুটি খালি স্ট্যাম্পসহ মোট তিনটি স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। একই সাথে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করা হয়।
সেলিম রেজা অভিযোগ করেন, পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর এনজিওর লোকজন তাদের চৌগাছার বাড়িতে গিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে তার পিতা ও চাচাদের অফিসে নিয়ে আসে। তবে তাকে অন্য রুমে আটকে রেখে তার পরিবারকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার পিতা ও চাচাদের কাছ থেকেও দুই মাসের মধ্যে ৩৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধের মর্মে আরেকটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
ঘটনার দুদিন পর, ১১ সেপ্টেম্বর রাতে সুযোগ বুঝে কার্যালয় থেকে পালিয়ে জীবন বাঁচান সেলিম রেজা। পরে ১২ সেপ্টেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনেরা তাকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে দুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ছাড়পত্র নিয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম রেজা প্রশাসনের কাছে এই অমানসিক নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। একই সাথে জোরপূর্বক নেওয়া নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল (টিভিএস আরটিআর, যশোর ল-১২৮২৩৫), গাড়ির কাগজপত্র, চাবি, মোবাইল ফোন ও মূল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রগুলো উদ্ধারের দাবি জানান। এ ছাড়া চরম অনিয়ম ও নির্যাতনের দায়ে ‘সিও’ এনজিও-র নিবন্ধন বাতিলের জোর দাবি জানান তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :