• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যশোরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর:
আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও যশোর শহরের পুরাতন কসবা মৌজায় ‘সরদার স্টেট’-এর কোটি টাকা মূল্যের পৈতৃক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টার তীব্র অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় বিএনপি নেতা মানিকের নেতৃত্বে একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই জমিতে ইট-খোয়া রেখে দখলের চেষ্টা চালায় বলে জানান জমির মালিক সায়াদ হোসেন। এ সময় বাধা দিলে জমির মালিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও জোরপূর্বক মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর পৈতৃক সম্পত্তি দখলের ষড়যন্ত্রের ঘটনায় যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী সায়াদ হোসেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সায়াদ হোসেন শহরতলীর আরবপুর এলাকার বাসিন্দা। পুরাতন কসবা মৌজায় আরএস ৬০৬ ও ৬০৭ খতিয়ানের আরএস ৬০৫৮ দাগে তাঁদের ১৬৪ দশমিক ৫০ শতক পৈতৃক জমি রয়েছে। উক্ত জমি নিয়ে যশোর সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা (নং- ৭৩/২৬) বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে আদালত বিবাদীদের ওপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

সায়াদ হোসেনের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিবাদী আসাদুজ্জামান, সুমন হোসেন ও রাজুসহ তাঁদের সহযোগীরা জমিতে ইট-খোয়া ও অন্যান্য সরঞ্জাম ফেলে অবৈধ দখলের পাঁতারা করে আসছিলেন। শুক্রবার সকালে আবারও বিএনপি নেতা মানিক, আসাদ ও সুমনের নেতৃত্বে মিলন, মথু, সেলিম, সিদ্দিক, মধু, জাহিদ ও হ্যাপিসহ ১০-১২ জন লোক জমিতে অনাধিকার প্রবেশ করে।

ঘটনাস্থলে ভুক্তভোগী পরিবার বাধা দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও তুমুল হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করতে গেলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে মোবাইল থেকে ভিডিও ডিলিট করিয়ে নেয় এবং তাঁদেরকে খুন-জখমের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জমির মালিক সায়াদ হোসেন জানান, "এটি আমাদের ক্রয়কৃত কোনো সম্পত্তি নয়, আমাদের বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পত্তি। আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও প্রভাব খাঁটিয়ে জমি দখলের তাণ্ডব চালানো হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা এবং আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।"

পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করার আগেই বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধ মালামাল অপসারণ এবং জানমালের নিরাপত্তা বিধানে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।