• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

শার্শায় ‘মিথ্যা’ মামলায় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মিন্টুসহ ৬ জনের জামিন


FavIcon
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬, ৬:৪৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

শার্শাপ্রতিনিধি:

যশোরের শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুসহ ৬ আসামি একটি ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ মামলায় জামিন পেয়েছেন। আজ বুধবার দুপুরে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (শার্শা আমলী আদালত) আদালতের বিচারক আছাদুল ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই জামিন আদেশ মঞ্জুর করেন।

​মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গেট সংলগ্ন হাবিবের চায়ের দোকানের সামনে স্থানীয় ছুটিতে থাকা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আওয়ামী লীগের কোটায় চাকরি পাওয়া পুলিশ সদস্য মামুন হাসান জুয়েলের সাথে টিটোন ও পিন্টু নামের দুই যুবকের কথা কাটাকাটি ও মারামারি হয়। ঘটনাটি জানতে পেরে চায়ের দোকানদার হাবিব তাৎক্ষণিকভাবে সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে বিষয়টি অবহিত করেন।

​খবর পেয়ে অ্যাডভোকেট মিন্টু দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) সাথে কথা বলে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ সমঝোতা করে দেন।

​স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসা হলেও ওই দিনই কন্যাদহ গ্রামের রড় শহীদের ভাই আব্দুল বারিক নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডিতে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না।

​কিন্তু জিডি করার ৫ দিন পর শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ডিবি পুলিশের একটি যৌথ টিম অ্যাডভোকেট মিন্টুকে আটক করতে শ্যামলাগাছী গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় উপস্থিত জনতা পুলিশের কাছে আটকের কারণ এবং ওয়ারেন্ট বা মামলার এজাহারের কপি দেখতে চাইলে পুলিশ তা দেখাতে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় জনগণের তীব্র প্রতিবাদের মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখান থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

​এই ঘটনার রেশ ধরে গত ৪ জুন রাতে পুলিশ সদস্য জুয়েলের ভাই ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান রয়েল বড় শহীদকে সাথে নিয়ে শার্শা থানায় একটি নতুন মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৪, তারিখ: ০৪/০৬/২০২৬)। এই মামলায় অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে ১ নম্বর আসামিসহ মোট ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। একই ঘটনায় পৃথক পৃথক বাদী এবং জিডির পর আবার মামলা হওয়ায় বিষয়টি সম্পূর্ণ ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হাস্যকর’ বলে দাবি করেছেন আইনজীবীরা।

​এদিকে আজ বুধবার সকালে মামলার এজাহারভুক্ত দুই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী মারুফ হোসেন ও মনির হোসেন বিজ্ঞ নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে একটি এফিডেভিট (হলফনামা) সম্পাদন করেন। হলফনামায় তারা উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় ১ নম্বর আসামি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং তিনি এই ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নন। এমনকি সাক্ষী হিসেবে আমরা নিজেরাও ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।

​পরবর্তীতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীদের এই হলফনামা ও মামলার অসঙ্গতিগুলো আদালতের সামনে তুলে ধরেন। বিজ্ঞ বিচারক দীর্ঘ শুনানি শেষে ঘটনার সত্যতা বিবেচনা করে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুসহ মামলার সকল আসামির জামিন মঞ্জুর করেন ।আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই রায়কে 'ন্যায়ের জয়' বলে আখ্যায়িত করেছেন।