ইরানের তেহরানসহ ৬ শহরে ইসরায়েলের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া দীর্ঘদিনের উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত এক ভয়াবহ রূপ নিল। আজ শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি এবং সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘ইরনা’ (IRNA) এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে প্রথম প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইস্ফাহান, কোম, লোরেস্তান, কারাজ, কেরমানশাহ এবং তাবরিজ শহরেও একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে শুরু করে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তেহরানে যে এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আঘাত হেনেছে, তার খুব কাছেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দপ্তর অবস্থিত। এই কৌশলগত এলাকায় হামলা ইরানকে চরমভাবে উস্কানি দেওয়ার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। হামলার পরপরই তিনি ইসরায়েলজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে পাল্টা হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে তেল আবিব।
গত শুক্রবার জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে চলা দীর্ঘ সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে সমঝোতা না হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় এই সামরিক অভিযান শুরু হলো। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বিভাগের দাবি, এটি একটি ‘সর্বাত্মক অভিযান’ এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে এই হামলা চালাচ্ছে।
তেহরান ও পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা নিহতের সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। বিশ্বনেতারা এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ এই হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সূত্র: সিএনএন, এপি, ফার্স নিউজ ও ইরনা।
আপনার মতামত লিখুন :