• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

২২ বছর পর ভারতকে হারালো বাংলাদেশ!


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ১১:০৭
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার : ফুটবলপ্রেমীদের ২২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গতকাল ১৮ নভেম্বর জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতকে ১-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে বাংলাদেশ। ফিলিপাইনের রেফারি ক্লিকফোর্ডের শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গেই বাঁধনহারা উল্লাসে ফেটে পড়ে প্রায় ২৪ হাজার দর্শক। ঘরের মাঠে এই জয় এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশের জন্য প্রথম।

ম্যাচের শুরুতেই ১২ মিনিটে বাংলাদেশকে লিড এনে দেন তরুণ ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন। রাকিবের সঙ্গে কাউন্টার অ্যাটাকে বল দেওয়া-নেওয়া করে তিনি ভারতীয় বক্সে প্রবেশ করেন। এ সময় গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং পোস্ট ছেড়ে এগিয়ে এলে মোরসালিন অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্তভাবে তার দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল প্লেসিং করেন, যা জালে জড়াতেই বাংলাদেশের ডাগ-আউটে বয়ে যায় উল্লাসের স্রোত।

বাংলাদেশ এই ১-০ গোলের লিড ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত ধরে রাখে। যদিও গোল পাওয়ার পর বাংলাদেশ কয়েক মিনিটের জন্য উজ্জীবিত ফুটবল খেললেও নিজেদের ভুলেই অকারণে ভারতের কাছে বল তুলে দিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায়।

ম্যাচের ফল ধরে রাখায় বাংলাদেশের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ফুটবলার হামজা চৌধুরীর ভূমিকা ছিল প্রধান। ডিফেন্সে চীনের প্রাচীর হয়ে তিনি পুরো ম্যাচে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভারতের আক্রমণগুলো সামলেছেন। বিশেষ করে, প্রথমার্ধে ৩১ মিনিটে গোলরক্ষক মিতুলের ভুলে যখন গোলপোস্ট অরক্ষিত, তখন ভারতের চাংতের শট নিশ্চিত গোলে পরিণত হওয়ার পথে ছিল। সেই মুহূর্তে কয়েক গজ দূর থেকে লাফিয়ে হেড দিয়ে বল সেভ করে তিনি বাংলাদেশকে নিশ্চিত বিপদ থেকে রক্ষা করেন। দ্বিতীয়ার্ধেও তিনি বহু ভারতীয় আক্রমণ প্রতিহত করেন।



হংকং এবং নেপালের বিপক্ষে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে গোল হজম করার তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকায় বাংলাদেশি সমর্থকদের মনে একটা শঙ্কা ছিল — শেষ মুহূর্তে রক্ষণ কিংবা গোলরক্ষকের ভুলে গোল হজম করে বসে কি না! তবে আজ সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে ভারত একের পর এক আক্রমণ শানিয়েও গোলের দেখা পায়নি।

ভারতের কোচ খালিদ জামিল দ্বিতীয় অর্ধে কৌশলে অনেক পরিবর্তন আনলেও সমতাসূচক গোল এনে দিতে পারেননি। অপরদিকে বাংলাদেশের কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা গোলদাতা মোরসালিনের বদলে গতিময় শাহরিয়ার ইমনকে নামান, যিনি ভারতের রক্ষণভাগে কাঁপন ধরালেও গোল পাননি। উল্লেখ্য, ভারতের ১৩৬ র‍্যাংকিংয়ের তুলনায় বাংলাদেশ শক্তিমত্তায় পিছিয়ে থাকলেও, ভারতীয় দলের ৯ জন নিয়মিত খেলোয়াড় আজ একাদশে ছিলেন না। মোহনবাগানের ফুটবলারদের দেরিতে ক্যাম্পে যোগ দেওয়ায় কোচ খালিদ জামিল তাদের বাদ দিয়ে আসেন, যার প্রভাব স্পষ্টতই মাঠে দেখা যায়।

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ মানেই এক বাড়তি উত্তেজনা, যার রেশ মাঠেও ছিল। ৩৫ মিনিটে বল দখলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের ডিফেন্ডার তপু ও ভারতীয় মিডফিল্ডার বিক্রমের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। ফিলিপাইনের রেফারি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দু'জনকেই হলুদ কার্ড দেখান। দ্বিতীয়ার্ধেও উত্তেজনা বজায় ছিল, যেখানে রেফারি একাধিক কার্ড ব্যবহার করেন। উল্লেখ্য, ১০ জুন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে এই ফিলিপাইনি রেফারি বিতর্কিত রেফারিং করলেও আজকের ম্যাচে তার সিদ্ধান্তগুলো সমালোচনার ঊর্ধ্বে ছিল।

এই জয়ের মাধ্যমে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ পাঁচ ম্যাচ শেষে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করলো। এর আগে ভারতের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে ড্র এবং হংকংয়ে একটি ড্র করেছিল। এটি হোম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম জয়। ২ পয়েন্ট নিয়ে ভারত টেবিলের নিচে অবস্থান করছে। উল্লেখ্য, দুই দলেরই এশিয়া কাপ খেলার সম্ভাবনা আগের ম্যাচেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।