ছাত্ররাজনীতির মাঠ থেকে জাতীয় সংসদ: এমপি হলেন শিবিরের ৭ সাবেক সভাপতি
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৭
স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতাদের ওপর ভর করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দেশজুড়ে দলটির বিজয়ী প্রার্থীদের তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইসলামী ছাত্রশিবিরের অন্তত সাতজন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের এই বিজয়কে জামায়াতের রাজনীতিতে ‘প্রজন্মান্তর’ এবং সংসদীয় দলে সাবেক ছাত্রনেতাদের শক্তিশালী অবস্থান হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
- সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের (কুমিল্লা-১১): ১৯৮৬-৮৭ সেশনের সভাপতি ও বর্তমানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির। চৌদ্দগ্রাম আসনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে তিনি বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
- সাইফুল আলম মিলন (ঢাকা-১২): ১৯৮৩ সালের সভাপতি এবং বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে তিনি বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন।
- রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪): ১৯৯৪-৯৫ সেশনের সভাপতি ও জামায়াতের বর্তমান সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত হয়ে তিনি ফের জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
- নূরুল ইসলাম বুলবুল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩): ২০০১-০২ সেশনের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই আসনটিতে তিনি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন।
- শফিকুল ইসলাম মাসুদ (পটুয়াখালী-২): ২০০৬-০৭ সেশনের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি। দক্ষিণাঞ্চলের এই আসনে জামায়াতের বিজয় নিশ্চিত করে তিনি চমক সৃষ্টি করেছেন।
- সালাহউদ্দিন আইউবী (গাজীপুর-৪): ২০২১ সালের নবীন এই সাবেক সভাপতি গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২০ সালে তিনি সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন।
- হাফেজ রাশেদুল ইসলাম (শেরপুর-১): ২০২২ সালের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি। জামায়াতের তরুণ নেতৃত্বের অন্যতম এই মুখ শেরপুর থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, জামায়াতে ইসলামী এবার তাদের অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি ছাত্রশিবিরের সাবেক শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশকে মনোনয়ন দিয়েছিল। বিশেষ করে যারা গত দুই দশকে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, তাদের এই বিজয় দলের ভেতরে ছাত্রশিবিরের প্রভাব ও গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। সংসদের ভেতরে নীতিনির্ধারণী বিতর্কে এই সাবেক ছাত্রনেতারা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
আপনার মতামত লিখুন :