৩ বছরে চার শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:০৬
স্টাফ রিপোর্টার :
গত তিন বছরে (জুলাই ২০২৩ – জুন ২০২৬) দেশে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর তালিকাভুক্ত চার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, উক্ত মেয়াদে বিজিএমইএ-এর সদস্যভুক্ত ২৮২টি এবং বিকেএমইএ-এর ১২৩টি সহ প্রায় চার শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব কারখানার পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কারখানা বন্ধের কারণ হিসেবে মন্ত্রী জানান—বিশ্বব্যাপী করোনা পরবর্তী প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং দেশের ভেতরের রাজনৈতিক অস্থিরতা অন্যতম। এছাড়া অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, ইউরোপের সাথে ভারত ও ভিয়েতনামের এফটিএ (FTA) চুক্তি এবং ছোট-মাঝারি কারখানাগুলোতে বিদেশী ক্রেতাদের অর্ডার কমানোর প্রবণতাও এ সংকটের কারণ।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পোশাক খাতের বাজার ধরে রাখতে বিকল্প নগদ সহায়তা ১.৫০%, ইউরো অঞ্চলে অতিরিক্ত ০.৫০% বিশেষ সহায়তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অতিরিক্ত ৩.০০% সুবিধা এবং তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ ০.৩০% নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
এদিকে, সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। জেলা টাস্কফোর্স ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করছে। কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিযোগিতা কমিশনকে সক্রিয় রাখা হয়েছে এবং জনস্বার্থে এই তদারকি অব্যাহত থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :