• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন খুন: যশোর থেকে যেভাবে রাজধানীর অপরাধ সাম্রাজ্যে


FavIcon
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫১
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন (৫২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও নিহতের পরিবারের দাবি অনুযায়ী, কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধ এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত পৌনে আটটার দিকে নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেট সংলগ্ন শাহনেওয়াজ হলের সামনে মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত টিটনকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে ৫-৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তার মাথা ও শরীরে গুলি লাগলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) নিউমার্কেট থানায় একটি মামলা করেছেন টিটনের বড় ভাই সাঈদ আক্তার রিপন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোহাম্মদপুরের বছিলা পশুর হাটের ইজারা (শিডিউল) কেনা নিয়ে অন্য সন্ত্রাসীদের সঙ্গে টিটনের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। ২৬ এপ্রিল টিটন তার ভাইকে জানিয়েছিলেন যে, পিচ্চি হেলাল, কিলার বাদল ও ড্যাগারি রনিদের সঙ্গে হাটের ইজারা নিয়ে তার ঝামেলা চলছে। ২৭ এপ্রিল তাকে একটি 'মীমাংসা বৈঠক'-এর কথা বলে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। পরিবারের ধারণা, এটি ছিল তাকে হত্যার একটি 'টোপ'।

যশোর থেকে রাজধানীর ডন
টিটনের আদি বাড়ি যশোরের খড়কি এলাকায়। নব্বইয়ের দশকে যশোর থেকেই তার অপরাধ জগতের হাতেখড়ি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি ঢাকায় পাড়ি জমান এবং তার ভগ্নিপতি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের অপরাধ সাম্রাজ্যের অন্যতম সেনাপতি হয়ে ওঠেন। ২০০১ সালে ঘোষিত ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় টিটনের নাম ছিল দুই নম্বরে। ২০ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে থাকার পর ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

সন্দেহের তালিকায় পিচ্চি হেলাল ও ইমন
মামলার এজাহারে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালসহ কয়েকজনের নাম সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পিচ্চি হেলাল সংবাদমাধ্যমের কাছে তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে দাবি করেছেন, টিটন তার বন্ধু ছিলেন এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য নিয়ে সানজিদুল ইসলাম ইমনের সঙ্গে টিটনের পুরনো বিরোধ ছিল। পুলিশ দুই পক্ষের কোন্দল এবং পশুর হাটের ইজারা—উভয় দিকই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার জানান, ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকলেও আশপাশের এলাকার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। বুধবার রাতেই টিটনের মরদেহ যশোরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কারবালা কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।