• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

কেশবপুরে জমি জবরদখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১৫:০২
ছবির ক্যাপশন: ad728

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুরে জবরদখলকারীর হাত থেকে জমি দখলমুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নূর ইসলাম গাজী নামে এক ব্যক্তি। শুক্রবার বিকেলে কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে পৌরসভার ভোগতি নরেন্দ্রপুর এলাকার ওই ব্যক্তি জমি জবরদখলের অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেন।

লিখিত বক্তব্য পাঠকালে নূর ইসলাম গাজী জানান, তিনি একজন কৃষক এবং বাজারে সাইকেলে করে কটকটি বিক্রি করে পরিবারের ৭ সদস্যের জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ২০০৬ সালের ভোগতী নরেন্দ্রপুর মৌজায় কালাবাসা নামক স্থানে একই গ্রামের সামাদের নিকট থেকে দেড় শতক জমি নিজ নামে ক্রয় এবং পরবর্তীতে নামপত্তন করেন। যার খতিয়ান নং: ১৪৮৭, দাগ নং: ২৮৩৯। ওই জমির কিছু অংশে একটি চা-এর দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেই। এরপর ২০১২ সালে ভোগতী নরেন্দ্রপুর গ্রামের মোকাম গাজী ওই মালিকের একই দাগ হতে প্রথমে ২ শতক পরবর্তীতে আরও ৪ শতক সর্বমোট ৬ শতক জমি ক্রয় করে। এরপর থেকেই সে শুরু করে তার জমির ভেতর দিয়ে পাকা নির্মাণ কাজ করার। বিগত ২০২৫ সালের প্রথম দিকে জোর পূর্বক তার জমিতে ঘর নির্মাণ করার চেষ্টা চালায়। তিনি প্রতিবাদ করতে গেলে মোকাম গাজীর হুমকীতে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসেন। মোকাম গাজী তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের ক্ষমতা ও অবৈধ টাকার জোরে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে আমার জমির কিছু অংশ জবর দখলে নিয়ে পাকা প্রাচীর নির্মাণ করে ভোগ দখল করছে। উপায়ন্ত না পেয়ে ওই সময় ১৪৪ ধারা করেন। বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংসার জন্য বহুবার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মশিয়ার রহমানের নিকট গেছেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি মিমাংসা করতে পারেননি। নিরূপায় হয়ে কেশবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদের নিকট মিমাংসা করে দেওয়ার জন্য বলেম। তিনি তাকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি কখনও তার জমি সংক্রান্ত কোন সালিশ বা ওই জমি যখন মোকাম গাজী জবর দখল করছিলো তখনও তাকে ফোন করে আসতে বললে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেয় তোমরা আইনের আশ্রয় নেও, তিনি যাবেন না। এরপর তিনি (নূর ইসলাম) আবারও আদালতের স্মরণাপন্ন হয়ে আদালতে ১৪৪ ধারা করেন। কিন্তু অতিব দুঃখের বিষয় মোকাম গাজী ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে নির্মাণ কাজ শেষ করেন। উপায়ান্ত না পেয়ে পৌর প্রশাসকের নিকট জমির প্রকৃত মাপ ও বিবাদ নিরসন কল্পে আবেদন করেন। যা গত ১ মার্চ পৌরসভার সার্ভেয়ার দ্বারা মাপ হয় এবং দেখা যায় মোকাম গাজী তার জমির ৩ ফুট ৩ ইঞ্চি জবর দখল করে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। এরপরও গত ৫ মার্চ মোকাম গাজী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুজ্জামান চৌধুরীকে জড়িয়ে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট অসত্য তথ্য দিয়ে গোপনে একটি সংবাদ সম্মেলন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সম্মানহানী করে চলেছে। 

তিনি উক্ত সংবাদ সম্মেলনের এবং মোকাম গাজীর ভিডিও চিত্রে আপত্তিকর অংশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণসহ তদন্ত পূর্বক অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। মোকাম গাজীর এহেন কর্মকান্ড থেমে থাকেনি। দখলের প্রতিবাদ করায় হুমকী অব্যাহত রেখেছে এবং সে তাদের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি ও বড় ধরণের ক্ষতি সাধন এবং প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নূর ইসলাম গাজী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।