জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের জন্য ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ অনুমোদন
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক :
জুলাই গণঅভ্যুত্থান রক্ষা ও অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।
আইন উপদেষ্টা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পরিচালিত সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কার্যাবলি থেকে আন্দোলনকারীদের পূর্ণ ফৌজদারি দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হবে।
ড. আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেন, গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন কর্মকাণ্ডের জন্য যদি কোনো ফৌজদারি মামলা হয়ে থাকে, সরকার দ্রুততম সময়ে সেগুলো প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেবে। একইসঙ্গে, ওই সময়ের রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে করা কর্মকাণ্ডের জন্য ভবিষ্যতে আর কোনো নতুন মামলা করা যাবে না।
আইন উপদেষ্টা এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তায় বলেন, এই আইন কোনো ব্যক্তিগত বা সংকীর্ণ স্বার্থে করা অপরাধের জন্য নয়। তিনি বলেন, “যদি কেউ ব্যক্তিগত প্রতিশোধস্পৃহা বা লোভের বশবর্তী হয়ে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তবে সে এই দায়মুক্তির সুযোগ পাবে না। এই অধ্যাদেশ কেবল ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের আন্দোলনে সম্মিলিতভাবে যুক্ত ব্যক্তিদের সুরক্ষার জন্য।”
কোন অপরাধটি রাজনৈতিক প্রতিরোধ আর কোনটি ব্যক্তিগত স্বার্থে করা—তা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে। ড. আসিফ নজরুল জানান, কোনো ভিকটিমের পরিবার যদি মনে করে যে তাদের স্বজন ব্যক্তিগত স্বার্থের শিকার হয়েছেন, তবে তারা কমিশনে আবেদন করতে পারবেন। মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পুলিশের চার্জশিটের মতোই গণ্য হবে।
ব্রিফিংকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :