সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিচ্ছে তুরস্ক
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:০৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচ্যুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ (এসডিএমএ) চুক্তিতে তৃতীয় দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে তুরস্ক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে এই কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যদিও চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলী জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি, তবে দুই দেশের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, এটি একটি পারস্পরিক সুরক্ষা চুক্তি। অর্থাৎ, চুক্তিবদ্ধ কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অপর দেশ সামরিকভাবে তার পাশে দাঁড়াবে।
এই জোটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি। একমাত্র মুসলিম দেশ হিসেবে পাকিস্তানের কাছে থাকা পরমাণু অস্ত্র এই চুক্তির সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। এর পাশাপাশি পাকিস্তানের ৬ লাখ সদস্যের সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী এই জোটকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক জোটে পরিণত করেছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এই জোটটি মূলত পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর (NATO) আদলে গড়ে তোলা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এর উদ্দেশ্য কোনো দেশে আগ্রাসন চালানো নয়, বরং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর বাইরের কোনো আক্রমণ সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করা।
ন্যাটোর অন্যতম শক্তিশালী সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে আঙ্কারা এই নতুন এশিয় জোটে যোগ দিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাস থেকেই তুরস্কের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের আলোচনা চলছে। বর্তমানে এই আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই তুরস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটে যোগ দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক এই জোটে যোগ দিলে এটি মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক ও কৌশলগত বলয়ে পরিণত হবে, যা বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :