• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

না ফেরার দেশে ‘আপসহীন নেত্রী’ বেগম খালেদা জিয়া


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪০
ছবির ক্যাপশন: ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন ও ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

বিএনপির মিডিয়া সেল ও দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক শোকবার্তায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, আজ ফজরের নামাজের ঠিক পরপরই তিনি ইন্তেকাল করেন। দীর্ঘ এক মাস ধরে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, অত্যন্ত জটিল ও সংকটময় পরিস্থিতির সঙ্গে যুদ্ধ করে আজ ভোরে তিনি শেষ বিদায় নেন।


বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। ১৯৬০ সালে সেনাকর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। আশির দশকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের পর দলের ক্রান্তিলগ্নে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখেন তিনি। ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হওয়ার পর স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি গণমানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন।

সংসদীয় গণতন্ত্রের রূপকার ও প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ১৯৯১ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন তিনি। তার হাত ধরেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষা বিস্তার, বিশেষ করে মেয়েদের উপবৃত্তি ও প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পেছনে তার অবদান চিরস্মরণীয়। ২০০১ সালেও তিনি বিপুল জনসমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে পূর্ণ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অপরাজেয় এক নেতা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের অনন্য এক রেকর্ড হলো, তিনি সংসদীয় জীবনে কোনোদিন কোনো আসনে নির্বাচনে হারেননি। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে তিনি যতগুলো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সবকটিতেই জয়লাভ করেছেন। গণতন্ত্র রক্ষায় তার অসামান্য অবদানের জন্য ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট সিনেট তাকে ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ উপাধিতে ভূষিত করে।

শেষ দিনগুলো ২০১৮ সালে একটি রাজনৈতিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তাকে কারাবরণ করতে হয়। যদিও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি সকল আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পান। তবে দীর্ঘদিন কারাবাস ও উপযুক্ত সুচিকিৎসার অভাবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে, যা অবশেষে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তার রূহের মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।