শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক রায় আসবে: চিফ প্রসিকিউটর
Swapnobhumi
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ১৪:২২
স্বপ্নভূমি ডেস্ক:
গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক রায় আসবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুলাহ আল-মামুনের সেই মামলাটির আজকে একটা নির্ধারিত তারিখ ছিল। তাদের বিরুদ্ধে গত জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশের সংঘটিত যে ম্যাসাকার এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ, সেই অপরাধের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিল। দীর্ঘ পথ পরিক্রমা শেষে, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে, উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে সেই মামলাটি এখন রায়ের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। আজকে আদালত এ মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন নির্ধারিত করেছেন।
তিনি বলেন, আমরা অঙ্গীকার করেছিলাম যে, যারাই বাংলাদেশে যত শক্তিশালী হোক না কেন, যদি কেউ অপরাধ করে—মানবতাবিরোধী অপরাধ করে, তাদেরকে সঠিক পন্থায় বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং তাদের আইন অনুযায়ী যে প্রাপ্য, সেটা তাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সেই প্রক্রিয়ায় আমরা একটা দীর্ঘ যাত্রা শেষ করেছি। আমরা এখন চূড়ান্ত পর্বে উপনীত হয়েছি। আশা করছি, ১৭ নভেম্বর আদালত তার সুবিবেচনা, তার প্রজ্ঞা প্রয়োগ করবেন এবং এ জাতির যে বিচারের জন্য আকাঙ্ক্ষা, যে তৃষ্ণা, সেটার প্রতি তারা সুবিচার করবেন এবং একটি সঠিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটা ইতি ঘটাবেন। ভবিষ্যতের জন্য এই রায়টি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, তেমন একটি রায় আমরা প্রত্যাশা করছি।
গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি আদালতের কাছে প্রার্থনা করেছি। আদালত তার সুবিবেচনা প্রয়োগ করবেন এবং আমাদের পক্ষ থেকে প্রার্থনা হচ্ছে যে, এ অপরাধের দায়ে আসামিদের যেন সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরাসরি যদি কেউ বিচার প্রক্রিয়াকে বানচালের জন্য কোনো হুমকি দেন, কোনো কার্যক্রম করেন, নিশ্চিতভাবে সেটা আদালতের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল হবে। তারপরও সব কিছুর ব্যাপারে আমরা আমাদের নাক গলাতে চাই না। আমরা আমাদের বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে, আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলতে চাই। দেশে সরকার আছে, রাষ্ট্র আছে, জনগণ আছেন, তারা সব কিছু ভালো বোঝেন এবং যারা উসকানি দেবেন, যারা সন্ত্রাস করার চেষ্টা করবেন, সে ব্যাপারে আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে।
তিনি আরও বলেন, যে জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকে, জনগণ যখন জেগে থাকে, সেই দেশে নৈরাজ্য করার সাহস-শক্তি কারোই কোনোদিন ছিল না হবেও না। আমরা বাংলাদেশের জনগণের দেশপ্রেম, তাদের প্রজ্ঞা, তাদের ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশের সরকারের বিভিন্ন সংস্থা-বাহিনীর প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আমরা আশা করি, যা কিছু বিচ্ছিন্নভাবে ঘটছে, সেগুলোর কোনোই প্রভাব কোনো জায়গায় পড়বে না এবং সব কিছু মসৃণভাবে হবে, বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাবে।
'আওয়ামী লীগ এই বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে' গণমাধ্যমকর্মীরা এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যারা যা খুশি প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারেন। এ বিচারে আমরা যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসেছি, সেটা ট্রান্সপারেন্ট ছিল। আপনারা সবাই তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী। এখানে অকাট্য প্রমাণ, শক্তিশালী সাক্ষ্য-প্রমাণ, সব কিছু তুলে ধরা হয়েছে। জাতির সামনে এ বিচার হয়েছে, আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দুনিয়ার সামনে ক্রিস্টাল ক্লিয়ারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সুতরাং তারা যত খুশি প্রশ্ন করতে পারেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। ন্যায়বিচার তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।
আপনার মতামত লিখুন :