• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

পুনঃখননে হরিহর নদে জোয়ার-ভাটা: কেশবপুরে কমবে জলাবদ্ধতা, কৃষকের মুখে হাসি


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১১
ছবির ক্যাপশন: ad728

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিন পলি জমে ভরাট হয়ে থাকা কেশবপুরের হরিহর নদ পুনঃখননের পর অবশেষে ফিরে পেয়েছে তার স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা ও পানির প্রবাহ। নদে প্রবল স্রোত ফেরায় কেশবপুর ও মণিরামপুর উপজেলার হাজারো কৃষকের মনে দেখা দিয়েছে নতুন আশার সঞ্চার। পলি অপসারণের ফলে বর্ষা মৌসুমের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ লাঘব হওয়ার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ জমিতে সহজে ফসল ফলানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেশবপুরের বড়েঙ্গা ত্রিমোহনা থেকে উৎপত্তি হয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হরিহর নদ কেশবপুর ও মণিরামপুর হয়ে চৌগাছায় গিয়ে মিশেছে। দীর্ঘকাল পলি জমে নদের তলা ভরাট হয়ে থাকায় জোয়ার-ভাটা ব্যাহত হচ্ছিল। এর ফলে কেশবপুর পৌরসভাসহ মঙ্গলকোট, পাঁজিয়া, কেশবপুর সদর এবং মণিরামপুরের চালুয়াহাটি, মনোহরপুর, দুর্বাডাঙ্গা ও শ্যামকূড় ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। পানির নিচে জমি তলিয়ে থাকায় বছরের একটি বড় সময় কৃষকেরা চাষাবাদ করতে পারতেন না।

সম্প্রতি নদটি পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় চলতি বর্ষায় পানির চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। সরেজমিনে কেশবপুর শহরের শ্রীগঞ্জ ব্রিজের ওপর এবং মধ্যকুল এলাকায় দেখা যায়, জোয়ারের পানিতে নদের দুই কূল উপচে পড়ছে এবং প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। নদীপাড়ের অধিবাসী ও কৃষকেরা নদের এমন প্রবহমান রূপ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন।
মধ্যকুল এলাকার কৃষক আয়ুব খান ও ব্যাসডাঙ্গা গ্রামের কামরুজ্জামান জানান, গত ৭-৮ বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে তাঁরা বর্ষাকালে কোনো ফসল ফলাতে পারেননি। তবে এবার নদ দিয়ে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় আর পানি জমছে না। এভাবে জোয়ার-ভাটা অব্যাহত থাকলে মাঘী পূর্ণিমার আগেই বিলের জমা পানি নেমে যাবে এবং যথাসময়ে রবিশস্য ও বোরো ধান আবাদ করা সম্ভব হবে।

২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক বাবুর আলী গোলদার বলেন, "নদ-নদী পুনঃখননের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসনের একটি বড় পথ খুলেছে। তবে এই সুফল দীর্ঘমেয়াদি করতে হলে ভবদহ অঞ্চলের যেকোনো একটি বিলে টিআরএম (জোয়ারাধার) চালু করা অত্যন্ত জরুরি।"

কেশবপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ হোসেন জানান, হরিহর নদের পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত সংযোগ খালগুলোও খনন করা হয়েছে। ফলে লোকালয় ও বিলের পানি দ্রুত নদে এসে পড়ছে এবং স্রোতের গতি বাড়ায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি অনেকটাই কেটে গেছে। এতে এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।