প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 03 November 2026, 16:36 ইং
যশোরের পাঁচফোড়ন রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে বেহাল দশা, লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের পাঁচফোড়ন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নানা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। রান্নাঘরে মশা-মাছির উপদ্রব, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং একই ফ্রিজে রান্না করা খাবারের সঙ্গে কাঁচা মাংস সংরক্ষণের মতো গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। এমনকি একটি ফ্রিজে দীর্ঘদিনের পুরোনো মাংসও মিলেছে। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমনা পালের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরের পালবাড়ির বিশ্বাস ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার টাকা জারিমানা আদায় করা হয়।
বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের অভিযানিক দল প্রথমে শহরের এমকে রোডে অবস্থিত পাঁচফোড়ন রেস্টুরেন্টে ও পরে বিমান অফিস রোডে প্রতিষ্ঠানটির রান্নাঘরে গিয়ে সরেজমিনে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। একই সাথে দড়াটানার নিউ ভৈরব হোটেল ও জনি হোটেলেও অভিযান চালিয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযানকালে পাঁচফোড়ন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে মশা-মাছির উপদ্রব, বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা এবং স্যাঁতসেঁতে ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখতে পান তারা। রান্নার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষাব্যবস্থারও ছিলনা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, একই ফ্রিজে রান্না করা খাবার ও কাঁচা মাংস একসঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। অন্য একটি ফ্রিজে পাওয়া যায় দীর্ঘদিনের পুরোনো মাংস।
পরে অভিযানকারী দল রেস্টুরেন্টে ফিরে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে। এ সময় রেস্তুরেন্ট কর্তৃপক্ষ কর্মীদের স্বাস্থ্য সনদ, স্যানিটারি সনদ ও ফায়ার সার্ভিসের সনদ দেখাতে ব্যর্থ হয়। সার্বিক অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে প্রতিষ্ঠানটির কংকন কুন্ডুকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। পরে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধের শর্তে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
পাঁচফোড়ন রেস্টুরেন্টে অভিযান শেষে শহরের দড়াটানায় অবস্থিত নিউ ভৈরব হোটেল ও জনি হোটেলেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। তবে গুরুতর কোনো অনিয়ম না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযানে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুর রহমান, সদর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মহিবুর রহমান, বেঞ্চসহকারী হাফিজুর রহমান ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, মঙ্গলবার পরিচালিত এ অভিযানের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে পালবাড়ির বিশ্বাস ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় ফার্মেসিতে তল্লাশি করে বিপুল পরিমানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ফার্মেসির মালিক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ