প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 23, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 22 October 2026, 06:51 ইং
ভারতে আসামে বাঙালি মুসলিম উচ্ছেদ পরিকল্পিত নিপীড়ন, আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান নাহিদ ইসলামের

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
ভারতের আসামে বাঙালি মুসলিমদের ওপর পরিকল্পিত নিপীড়ন, বাড়িঘর উচ্ছেদ এবং মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভারতে মুসলিমসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতিতে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, আসামে সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি বাঙালি মুসলিমের বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই উচ্ছেদ অভিযানের সময় ৫০ বছরেরও বেশি পুরনো ১০টিরও বেশি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, "কর্তৃপক্ষ একে সরকারি ও বনভূমির ‘দখলদার উচ্ছেদ’ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করলেও ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ভারতের স্বাধীনতার বহু আগে থেকেই ওই জমিতে বসবাস করে আসছে। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে পরিবারগুলোকে বাস্তুচ্যুত ও আটক কেন্দ্রে ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।"
নাহিদ ইসলাম আরও জানান, গত এক দশকে ভারতে প্রায় ১৯ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জোরপূর্বক বহিষ্কার, দমন-পীড়ন এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মাধ্যমে মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যা ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মতো বিষাদময় ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়।
ভারতের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, "হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের অধীনে ভারত তার মুসলিম, খ্রিষ্টান, শিখ এবং নিম্নবর্ণের হিন্দুসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর এই নগ্ন হস্তক্ষেপের জন্য ভারত সরকারকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।"
বিবৃতির শেষাংশে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, "জাতি বা ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। ভারতের মুসলিমরাও ভারতেরই নাগরিক।"
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ