প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 19, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 19 October 2026, 09:02 ইং
যশোরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুমারী ও সন্ধিপূজা সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার :
যশোরে নানা বর্ণাঢ্য আচার-অনুষ্ঠান ও গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে। সোমবার দিনভর শহরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া উপস্থিতিতে কুমারী পূজা এবং সন্ধিপূজা সম্পন্ন হয়।
আশ্রম সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৫টায় মহাষ্টমী পূজার মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় পরম শ্রদ্ধেয় কুমারী পূজা। এবার শাস্ত্রমতে যশোর বেজপাড়ার বাসিন্দা সোহাগ পাঠক ও মল্লিকা পাঠকের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা, প্লে-শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহানী পাঠককে ‘সুভগা’ রূপে দেবী আসনে বসিয়ে পূজা করা হয়।
কুমারী পূজা শেষে জগত ও মানবজাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন হাজারো ভক্ত। দেবী দুর্গার রাঙা চরণে ভক্তরা অঞ্জলি প্রদান করেন।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে এদিন সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট থেকে ১টা ৪৬ মিনিট এবং পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিট থেকে ৭টা ১ মিনিট পর্যন্ত অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয় শ্রীশ্রী দেবীর মহাগুরুত্বপূর্ণ ‘সন্ধিপূজা’। পূজা শেষে অসুর শক্তির বিনাশ ও অশুভ দূরীকরণের প্রতীকে শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী চালকুমড়ো, ইক্ষু গাছ ও পাকা কলা বলি দেওয়া হয়।
পূজার ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আশ্রমের পুরোহিতরা জানান, অষ্টমী ও নবমীর সংযোগস্থলের বিশেষ ৪৮ মিনিটে দেবী দুর্গা চামুণ্ডা রূপ ধারণ করে চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে বিনাশ করেছিলেন। তাই শাস্ত্র মতে এই পবিত্র মুহূর্তটিকে বিবেচনা করে সন্ধিপূজার আয়োজন করা হয়।
যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রমে এবার মূল পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন প্রণয় চক্রবর্তী এবং তন্ত্রধারী পুরোহিত ছিলেন শক্তিপ্রসাদ গাঙ্গুলী। অনুষ্ঠানসমূহের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ ও সহসম্পাদক স্বামী আত্মবিভানন্দ।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে মহানবমীর বিহিত পূজা। সকাল সাড়ে ৬টায় রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে এ পূজা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে শাস্ত্রমতে ১০৮টি নীল পদ্ম ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে দেবীর আর্চনা সম্পন্ন করা হবে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে ছয় দিনব্যাপী এই শারদীয় উৎসবের। দশমীর দিন সকাল সাড়ে ৬টায় কল্পারম্ভ এবং সকাল ৮টা ৫২ মিনিটের মধ্যে দর্পণ বিসর্জন সম্পন্ন হবে। এরপর সন্ধ্যা আরাত্রিকের পর প্রতিমা বিসর্জন এবং শান্তিজল সিঞ্চনের মাধ্যমে দেবীকে বিদায় জানাবেন ভক্তকূল।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ