প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 03 October 2026, 05:36 ইং
সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের পাশে পাকিস্তান, পাঠানো হলো ৪ কার্গো বিমান ভর্তি অস্ত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
লোহিত সাগর উপকূলে হুথি বিদ্রোহীদের সামাল দিতে এবং সৌদি সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের শক্তি বাড়াতে চার কার্গো বিমান ভর্তি আধুনিক অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে অস্ত্রের এই বড় চালানটি ইয়েমেনে পৌঁছায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের পাঠানো অস্ত্রের চালানে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System), হালকা কামান, ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধী আধুনিক প্রযুক্তি সরঞ্জাম। এছাড়া ইয়েমেনে নিয়োজিত সৌদি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সহায়তায় পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-কে দেওয়া একাধিক পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তার তথ্যমতে, হুথিদের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের জবাবে এক তীব্র সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। ইয়েমেনের কৌশলগত লোহিত সাগর উপকূলের প্রায় পুরো অংশ এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের তাইজ শহরের আশপাশে সংঘাত মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি হুথিরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু উড়িয়ে দিয়েছে, যা তাইজ-সংলগ্ন সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোর সঙ্গে এডেন বন্দরের সরাসরি সংযোগ রক্ষা করত।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় সৌদি বাহিনীও বিমান হামলার মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়েছে। হুথিদের দাবি অনুযায়ী, কেবল একদিনেই সৌদি জোট ৯৪টি হামলা চালিয়েছে। তবে রিয়াদ জানিয়েছে, সানা, সাদা ও তাইজে হুথিদের নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেই কেবল এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
ইয়েমেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের পক্ষে পাকিস্তান ও তুরস্কের অবস্থানকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। গত আগস্ট মাসে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যে ত্রিদেশীয় ঐতিহাসিক 'যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়েছিল—চলতি সংকটকে সেই চুক্তির প্রথম ব্যবহারিক ও কূটনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে বিষয়টিতে পাকিস্তানের জন্য কূটনৈতিক জটিলতাও রয়েছে। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত এবং হুথি বিদ্রোহীদের প্রতি তেহরানের সরাসরি সমর্থন থাকায়, রিয়াদের সঙ্গে মিত্রতা রক্ষার পাশাপাশি ইসলামাবাদকে নিজস্ব নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থ বজায় রেখে সাবধানে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, হুথিদের বাড়তে থাকা প্রভাব মোকাবিলায় আঞ্চলিক বলয় শক্তিশালী করার চেষ্টা চালাচ্ছে রিয়াদ। একই সঙ্গে ইয়েমেন ইস্যুতে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য ভুলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গেও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগে নিয়েছে সৌদি আরব।
(তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই ও রয়টার্স)
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ