প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 30 September 2026, 05:27 ইং
২৩ বছর পর ইরাক ছাড়ল মার্কিন সেনা বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
দীর্ঘ ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরাক ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে সেনাদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে দেশটির মাটিতে আর কোনো বিদেশি সেনার উপস্থিতি থাকছে না।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেওয়া এক ঐতিহাসিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "ইরাকে আইএস-বিরোধী বৈশ্বিক জোটের অভিযানের সমাপ্তি ঘটছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব বিদেশি সেনা প্রস্থান করবে। আগামী ১ অক্টোবর আমাদের দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হতে চলেছে, কারণ এ দিন থেকে ইরাক সম্পূর্ণ বিদেশি সেনামুক্ত হবে।"
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির ধারাবাহিক বৈঠকের ভিত্তিতেই সেনাপ্রত্যাহারের এই চূড়ান্ত ডেটলাইন নির্ধারিত হয়। গত জুলাই মাসে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর ওয়াশিংটন সফরের সময় এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত করা হয়।
যদিও তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা মার্কিন সেনার এই প্রস্থানকে নিজেদের 'বিজয়' হিসেবে উপস্থাপন করছে, তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছিল ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে। পরবর্তীতে তার উত্তরসূরী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সূচনা করলেন।
২০০৩ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করতে ইরাকে অভিযান শুরু করেছিল মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী। অভিযানের ৯ মাসের মাথায় সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার হন এবং দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সাদ্দামের পতনের পর সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর আকস্মিক উত্থানের কারণে ইরাকে অবস্থান বাড়াতে বাধ্য হয় ওয়াশিংটন।
২০২০ সালের পর থেকে মার্কিন সেনা সংখ্যা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হচ্ছিল। সম্প্রতি দেশটিতে প্রায় ৪,৫০০ জন মার্কিন সেনা অবস্থান করছিলেন, যাদের শেষ দলটি আজ ইরাক ত্যাগ করছে। গত ২৩ বছরে ইরাকের বর্তমান নিরাপত্তা বাহিনী গড়ে তোলা, অর্থায়ন ও প্রশিক্ষণ প্রদানে মার্কিন বাহিনী সরাসরি ভূমিকা রেখেছে।
মার্কিন সেনার বিদায়ে সাধারণ ইরাকিদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দেখা গেলেও তৈরি হয়েছে নতুন দুশ্চিন্তা। বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি সেনা চলে যাওয়ার পর সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, "নিরাপত্তাক্ষেত্রে সৃষ্ট যেকোনো শূন্যতা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। গত দুই দশকে আমরা এই রক্তক্ষয়ী শিক্ষা পেয়েছি।"
তবে বাগদাদ ও ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে, সেনা উপস্থিতি শেষ হলেও দুই দেশ এখন থেকে একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থকে সম্মান জানিয়ে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতে নতুন সহযোগিতামূলক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ দেবে।
(সূত্র: রয়টার্স)
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ