প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 26, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 26 September 2026, 02:01 ইং

স্টাফ রিপোর্টার :
আবেগঘন আয়োজনে মিলনমেলায় পরিণত যশোর শিল্পকলা একাডেমি। কেউ এসেছেন প্রিয় শিক্ষককে শ্রদ্ধা জানাতে, কেউ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাকে ভালোবাসায় সিক্ত করতে, আবার কেউ এসেছেন সমাজ ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের এক নিবেদিতপ্রাণ মানুষকে সম্মান জানাতে। বয়স, পেশা আর রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিন্নতা ভুলে শুক্রবার বিকেলে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে যেন এক মোহনায় মিলেছিলেন সবাই। উপলক্ষ ছিল যশোরের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রগতিশীল রাজনীতি ও বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সম্মানীয় সদস্য, সমাজচিন্তক এবং ভৈরব নদ ও তেল—গ্যাস, বিদ্যুৎ—বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলনের অন্যতম রূপকার অধ্যাপক মোহাম্মদ আফসার আলীর জন্মশতবর্ষ উদযাপন।
জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটি, যশোরের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনীতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন পরিণত হয় এক প্রাণের মিলনমেলায়।
জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটি যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশীদের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে অধ্যাপক আফসার আলীর জীবনীর তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। এতে তাঁর দীর্ঘ জীবনের নানা অধ্যায়, শিক্ষা বিস্তারে অবদান, প্রগতিশীল রাজনৈতিক চিন্তাধারা এবং ভৈরব নদ ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা তুলে ধরা হয়। প্রামাণ্যচিত্রের মধ্য দিয়ে উপস্থিত দর্শকেরা ফিরে যান তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবনের নানা সময়ে। পরে প্রিয় শিক্ষকের প্রিয় কিছু গান গেয়ে শোনান যশোরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা।
শুধু জন্মশতবর্ষ উদযাপন নয়, এ আয়োজন হয়ে ওঠে যশোরের সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের এক মিলনক্ষেত্র। দীর্ঘদিনের পরিচিতজন ও সহযোদ্ধাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দে মিলনায়তনজুড়ে তৈরি হয় আন্তরিক পরিবেশ।
অনুষ্ঠানের মধ্যভাগে অধ্যাপক আফসার আলী ও তার স্ত্রী শাহিদা বেগমকে মঞ্চে আসন দেয়া হয়। পরে তাকে ফুলেল শুভেচছা জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দল-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শিক্ষাবিদ নার্গিস বেগম, বামনেতা ইকবাল কবীর জাহিদ, তসলিমুর রহমান ও হারুন অর রশীদ। এরপর একে একে সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের পক্ষে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ভারতী রাণী হালদার, সিনিয়র সিটিজেন কর্ণার, শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুলের পক্ষে প্রফেসর শেখ আব্দুল হান্নান, তালবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহনাজ পারভীন, ডা. আব্দুর রাজ্জাক কলেজের অধ্যক্ষ জেএম ইকবাল হোসেন, জাগরনী চক্রের পক্ষে মাজেদ নেওয়াজ, যশোর ইনস্টিটিউটের পক্ষে সৈয় শাহজাহান আলী খোকন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, চারুপীঠ যশোর, স্টুডিও ফিউশনের পক্ষে কামরুজ্জামান আজাদ, জাতীয় কৃষক ও ক্ষেত মজুর কমিটি, বিপ্লবী যুব মৈত্রী, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, রায়মানিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি মহিলা কলেজ যশোর, এসএসসি ৮৬, দৈনিক প্রভাতফেরী সম্পাদক ফকির শওকত, চিন্তাপ্রকাশ যশোরের পক্ষে মফিজুর রহমান রুননু, শিল্পাঙ্গন যশোর, সুরধুনী, স্পন্ন্দন, সপ্তসুর, জাসদ, বাসদ, কিংশুক যশোর, স্যারের ছাত্র ছাত্রী এবং যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহ ফুলেল শুভেচছা জানায়। শেষে অনুভূতি ব্যক্ত করে অধ্যাপক আফসার আলী বলেন, মানুষ আমাকে এতটা ভালোবাসে জানতাম না। আজ এত এত মানুষের ভালোবাসা পেয়ে বুঝলাম মানুষ আমাকে হৃদয়ে এবং প্রার্থনায় রাখে। এ সময় সুরবিতানের সভাপতি অ্যাড. বাসুদেব বিশ্বাস, অধ্যাপক কাজী শওকত শাহী, চারুপীঠের পরিচালক মামুন রশীদ, বিবর্তনের সানোয়ার আলম খান দুলু, নওরোজ আলম খান চপল, সৈয়দ রানা মুস্তাফী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য অধ্যাপক আফসার আলী যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের রায়মানিক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। একাডেমি তথ্য অনুযায়ী তিনি ১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তবে পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী ৮ আশ্বিন, মঙ্গলবার, ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে তার জন্ম। তিনি ১৯৬১ সালে সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজে বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে একই কলেজে ১৯৯৫ সালে অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন এবং ১৯৯৭ সালে অবসরে যান। শিক্ষকতার পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তিনি যশোর সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি চারুপীঠ যশোরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।