নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোর শহরের দড়াটানা মোড়ের নিউ সাকো ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। অভিযানে কেক ও বিস্কুট মেয়াদোত্তীর্ণ এবং উৎপাদনের তারিখ না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার সকালে দড়াটানা এলাকায় নিউ সাকো ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই এলাকায় সিদ্দিক বেকারি নামের আরও একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে অনিয়মের দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যশোরের পরিচালক সেলিমুজ্জামান। এ সময় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আব্দুর রহমানসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি নিউ সাকো ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে বিক্রি করা ডিম প্যাটিসে নষ্ট ডিম ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
অভিযোগকারী যশোরে কর্মরত সাংবাদিক এম এইচ উজ্জ্বল জানান, গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি নিউ সাকো ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে চারটি ডিম প্যাটিস কিনে বাড়িতে নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা প্যাটিস খাওয়া শুরু করলে তার ছোট মেয়ে একটি প্যাটিসে কামড় দেওয়ার পর তীব্র দুর্গন্ধ পান। পরে প্যাটিসটি ভেঙে ভেতরের ডিম অস্বাভাবিক ও নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি।
উজ্জ্বলের অভিযোগ, ওই প্যাটিস খাওয়ার পর তার ছোট মেয়ের পেটে ব্যথা শুরু হয়। পরে তার দুই সন্তানই অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর তিনি প্যাটিসগুলো নিয়ে দোকানে গিয়ে বিষয়টি জানান। তার দাবি, দোকানের কর্মচারীরা প্যাটিসটি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে বিষয়টি ক্যামেরায় ধারণ করতে গেলে দোকানে দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, ডিম প্যাটিস নিয়ে অভিযোগের পর রোববার ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযান এবং কেক-বিস্কুটে অনিয়ম পাওয়ায় জরিমানার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির খাদ্যমান ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে প্রস্তুত খাবারে কী ধরনের কাঁচামাল ব্যবহার করা হচ্ছে, খাবার তৈরির পর কতক্ষণ এবং কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, বিক্রির আগে পণ্যের মান ও মেয়াদ পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যথাযথভাবে তদারকির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।