প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 31 August 2026, 13:15 ইং
সরকারি কর্মচারীদের নবম পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতিক্ষীত নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন এই কাঠামোতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ স্কেলের বেতনের ব্যবধান কমিয়ে এনে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি হারে মূল বেতন বাড়ানো হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ঐতিহাসিক অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬’ এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের বিচারকদের জন্য পৃথক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
নতুন অনুমোদিত পে-স্কেলটি চলতি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে জাতীয় অর্থনীতির সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুই অর্থবছর (২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮) জুড়ে তিন ধাপে এটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করবে সরকার। সে অনুযায়ী ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা আগে বাস্তবায়ন সুবিধা পাবেন। অপরদিকে পুনর্নির্ধারিত ভাতাসমূহ ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হবে।
নতুন স্কেলেও বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ১৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডে ১০০ শতাংশ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ফলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের বৈষম্যমূলক অনুপাত ১:১.৯৪৫ থেকে কমে ১:১.৭৮-এ নেমে এসেছে।
অবসরভোগী কর্মচারীদের জন্য ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ (ওআরওপি) নীতি নীতিগতভাবে গৃহীত হলেও এটি ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে। এর বিকল্প হিসেবে বর্তমানে কম নিট পেনশন পাওয়া প্রবীণদের সুবিধা বাড়াতে স্ল্যাবভিত্তিক ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা হারে ‘প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগে কেবল ৫ম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তারা পেলেও এখন থেকে সর্বস্তরের (১ম থেকে ২০তম গ্রেড) কর্মচারী ‘মোবাইল ভাতা’ পাবেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ২৪ লাখ কর্মরত অসামরিক ও সামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। এটি বাস্তবায়নে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে, যা বাজেট ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে সংকুলান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ