প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 09 August 2026, 13:38 ইং
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে কঠোর সিদ্ধান্ত যশোর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির

স্টাফ রিপোর্টার :
যশোর শহরকে যানজটমুক্ত করা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি। পৌরসভা, ট্রাফিক বিভাগ এবং জেলা প্রশাসন যৌথভাবে স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্ট সদস্যদের সাথে নিয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে যানজট নিরসনে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করবে। এছাড়া পৌরসভার অনুমোদন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া শহরে কোনো ভ্যান বা রিকশা চলাচল করতে দেওয়া হবে না। আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে।
রোববার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। সভায় গত জুলাই মাসের অপরাধচিত্র ও কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, পূর্বের তুলনায় ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকের ঘটনা কিছুটা বাড়লেও সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। তবে কিশোর গ্যাং ও সীমান্ত চোরাচালান নিয়ে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে বলেন, “যশোরকে মাদকমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এতে সর্বস্তরের নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি জানান, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গত তিন মাস ধরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। গত এক মাসে ২০৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে (সর্বোচ্চ তিন বছর) সাজা দেওয়া হয়েছে।
তিনি ভৈরব নদের পাড়ে অবস্থিত ৬৪টি হাসপাতালের পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী ইটিপি ও ডব্লিউটিপি আছে কি না তা খতিয়ে দেখে লাইসেন্স প্রদানের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রী না করে দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, যশোরকে নিরাপদ রাখতে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং রাস্তার দুই পাশের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান জোরদার করা হবে। তিনি নাগরিকদের আইন মানার মানসিকতা গড়ার আহ্বান জানান।
পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) সৈয়দ রফিকুল হাসান জানান, যানজট নিরসনের পাশাপাশি কিশোর গ্যাং ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং পৌর পার্কের নিরাপত্তা বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়—মাদক চোরাচালান ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্তে বিজিবি ও পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন এনএসআই-এর যুগ্ম পরিচালক আবুতাহের মোহাম্মদ পারভেজ, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, জেলা পাবলিক প্রসেকিউটর (পিপি) সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা পরিষদ প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হোসেন সাফায়াত, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান এবং ৪৯ ও ২১ বিজিবির প্রতিনিধিরা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “আইন সবার জন্য সমান। শহরকে সুন্দর ও পরিকল্পিত করতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছি।”
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ