প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 01 August 2026, 07:53 ইং
‘পরীক্ষার মাঠে জামায়াতকর্মীকে পেলে হাত-পা ভাঙা হবে’ - মনিরামপুরে বিএনপি নেতা

যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টুর একটি বিতর্কিত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জেলাজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী’ নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি জামায়াতে ইসলামীর কোনো কর্মীকে পরীক্ষার মাঠে পেলে ‘হাত-পা ভেঙে দেওয়ার’ হুশিয়ারি দেন। তবে বক্তব্যটি রাজনৈতিক কৌশলমাত্র দাবি করে ওই বিএনপি নেতা বলেছেন, বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং পরীক্ষাও অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে মণিরামপুরের ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় যৌথ সভা করছে উপজেলা বিএনপি। তারই অংশ হিসেবে গত ২৫ জুলাই শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, "আগামীকাল সকাল থেকে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা হবে। জামায়াতে ইসলামীর কোনো কর্মীকে যদি উপজেলা মাঠে পাই, হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে।" একই সময়ে তিনি উপস্থিত নারী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে জামায়াতের বিভিন্ন ‘বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা’ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। এ ছাড়া বক্তব্যে তিনি ধর্মীয় আমল ও ইসলামের মূল ভিত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভাটির ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়।
বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান মিন্টু জানান, "উপজেলা প্রশাসন ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর থেকেই জামায়াতের কিছু কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্ডের ছবি পোস্ট করে নানা বিরূপ মন্তব্য করছিল। মূলত তার প্রেক্ষিতেই মঞ্চে ওই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এটি একটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল, যাকে বাস্তব কোনো নির্দেশনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।" তিনি আরও দাবি করেন, কোনো রাজনৈতিক বৈষম্য ছাড়াই অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং একটি পক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টিকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ সম্রাট হোসেন জানান, গত ২৯ জুলাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী পদে ১,৫৭২ জন এবং সুপারভাইজার পদে ১৯৮ জন প্রার্থীর নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষা অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে এবং পরীক্ষায় কাউকে বাধা দেওয়া কিংবা অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ