প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 18, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 18 July 2026, 06:03 ইং
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর আবেদন খতিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত। গতকাল শুক্রবার (১৭ জুলাই) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে দেশটির মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মুখপাত্র বলেন, “আমরা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের (ফেরত পাঠানোর) জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পেয়েছি। অনুরোধটি বর্তমানে গভীরভাবে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়াগুলো খতিয়ে দেখছে ভারত সরকার।”
ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, প্রত্যর্পণের বিষয়টি সম্পূর্ণ একটি আইনি প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে ভারত সরকার নিজস্ব আইন ও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে অন্য এক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে (যিনি নির্বাচনের আগে একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং বর্তমানে ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে আছেন) প্রত্যর্পণের বিষয়ে জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেন, “অন্য ব্যক্তির প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অনুরোধের বিষয়ে আমি এখনই সুনির্দিষ্টভাবে কিছু নিশ্চিত করতে পারছি না। তবে যেকোনো প্রত্যর্পণের অনুরোধই আইনি ও বিচারিক কাঠামোর মাধ্যমেই বিবেচনা করা হয়।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। বর্তমানে তিনি দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি পলাতক অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে চান। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশের আদালতে ইতোমধ্যে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার এই আবহে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন দুই বছর আগের সেই জুলাইয়ের কথা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন চীন সফর সংক্ষিপ্ত করে ১১ জুলাই রাতে দেশে ফেরেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর তিন দিন পর, ১৪ জুলাই বিকেলে গণভবনে তাঁর চীন সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পরোক্ষভাবে ‘রাজাকারের নাতি-নাতনি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেছিলেন—“কোটা না দিলে কি রাজাকারের নাতি-নাতনিরা চাকরি পাবে?”
প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে আসা এই মন্তব্যটিই মূলত তৎকালীন সরকারের পতন ডেকে আনে। ওই রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘তুমি কে আমি কে—রাজাকার, রাজাকার’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এরপরই সর্বাত্মক এক দফার গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগ ও ক্ষমতার পতনের মধ্য দিয়ে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ