প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 10 July 2026, 09:44 ইং
৬ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষে নিজ জন্মভূমি মাশহাদে সমাহিত হলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক (সূত্র: রয়টার্স ও বিবিসি):
টানা ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান শেষে নিজ জন্মভূমি মাশহাদ শহরে সমাহিত হলেন মার্কিন সামরিক হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরের পবিত্র ইমাম রেজা মাজারের কাছে তার মরদেহ দাফন করা হয়। আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে তেহরানের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে দাফন সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
১৯৩৯ সালের এই মাশহাদ শহরেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরান রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেওয়া এই শীর্ষ নেতা। মৃত্যুর পর নিজের স্মৃতিবিজড়িত জন্মভূমিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন তিনি। দাফনের সময় খামেনির পরিবারের জীবিত সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও, সেখানে দেখা যায়নি তার মেজো ছেলে ও ইরানের বর্তমান নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে চরম বৈরিতার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে আকস্মিক সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানের প্রথম দিনই মার্কিন হামলায় প্রাণ হারান আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই একই হামলায় তার স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং মেজো ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রীও নিহত হন। হামলায় মোজতবা খামেনি নিজে অত্যন্ত গুরুতর আহত হন।
বৃহস্পতিবার সাবেক এই সর্বোচ্চ নেতার মরদেহ যখন একটি ট্রাকে করে মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে ইমাম রেজার মাজারের দিকে নেওয়া হচ্ছিল, তখন পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ট্রাকের দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরা আলেমরা হেঁটে চলেন। কালো পোশাক পরা শোকাহত লাখো মানুষ ইরানের জাতীয় পতাকা, খামেনির ছবি এবং বৈপ্লবিক স্লোগান-সংবলিত লাল প্ল্যাকার্ড হাতে এই বিশাল জানাজা ও শোকযাত্রায় অংশ নেন।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে ইরানে গত ৬ দিন ধরে চলা রাষ্ট্রীয় শোকের সমাপ্তি ঘটল। শোকের অনুষ্ঠানগুলোতে খামেনির চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মোস্তফা খামেনি, সেজো ছেলে মাসুদ খামেনি এবং ছোট ছেলে মেইসাম খামেনি উপস্থিত ছিলেন। বাবার শেষ জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বড় ছেলে মোস্তফা খামেনি। তবে পুরো শোক প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিলেন বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত মার্কিন হামলার পর সৃষ্ট চরম নিরাপত্তাহীনতা এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কারণে মোজতবা তার পিতার জানাজা বা দাফনে অংশ নিতে পারেননি। তবে তিনি বর্তমানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লব-উত্তর ইরানের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা। বিপ্লবের মহানায়ক আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি সর্বোচ্চ নেতার পদে আসীন হন এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ৩৭ বছর এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে, ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করেছিলেন তিনি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ