প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 05 July 2026, 10:55 ইং
৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম কেশবপুরের বাচ্চু

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
৪৭তম বিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন যশোরের কেশবপুর উপজেলার কানাইডাঙ্গা গ্রামের বাচ্চু রহমান। তার বাবা আনসার সদস্য হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল পুলিশে চাকরি করার। বাবার ইউনিফর্ম, বুট, বেল্ট নিয়ে খেলতে খেলতেই বড় হওয়া বাচ্চু শুধু স্বপ্ন দেখেই ক্ষান্ত হননি, বরং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে শ্রম আর অধ্যবসায়কে করতে হয়েছে নিত্যসঙ্গী।
৪৫তম বিসিএসে প্রিলিমিনারিতে বাদ পড়লেও হাল ছাড়েননি তিনি। ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়ার পর গত ২৮ জুন প্রকাশিত ৪৭তম বিসিএসের ফলাফলে বাচ্চু এই সাফল্য অর্জন করেন। বাচ্চুর সাফল্যে কেশবপুর উপজেলাব্যাপী আনন্দের ঢেউ বইছে।
যশোরের কেশবপুর উপজেলার কানাইডাঙ্গা গ্রামের আনসার বাহিনীর সদস্য নজরুল ইসলাম ও গৃহিণী বিলকিস বেগম দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে ছোট বাচ্চু রহমান। তিনি কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২০১৫ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পান। পরে পাঁজিয়া মহাবিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে এইচএসসিতে উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হন।
বাচ্চুর মা বিলকিস বেগম বলেন, ‘কত অভাব-অনটন, তার মধ্যেও ছেলেদের মানুষ করার চেষ্টা ছিল ওর বাবার। চাকরির যে টাকা, প্রায় সব চলে যেত তাদের পড়াশোনা করাতে। ছোটবেলা থেকে বাচ্চু পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল না। জেএসসি পরীক্ষার পর স্কুলের পিকনিক থেকে ফিরে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ হয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় অনেক কষ্ট করেছে। তার এই কষ্টের পুরস্কার দিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা। বাচ্চুর সাফল্যে পুরো গ্রাম খুশি।’
কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর বলেন, ‘প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা বাচ্চুর এই অনন্য কৃতিত্বে গর্বিত পুরো কেশবপুরবাসী। ছোটবেলা থেকেই বাচ্চু অত্যন্ত বিনয়ী ও মেধাবী ছিলেন। তার এই সাফল্য প্রমাণ করে- সঠিক কৌশল আর ধৈর্য থাকলে যেকোনো বড় স্বপ্নই ছোঁয়া সম্ভব।’
পুলিশ ক্যাডারে প্রথম হওয়া বাচ্চু রহমান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর জানতে পারি, বিসিএসের মাধ্যমে এএসপি হওয়া যায়। তখনই লক্ষ্য স্থির করি—পুলিশ ক্যাডারেই যাব। ক্যাম্পাসজীবনে প্রচুর পত্রিকা পড়তাম। এতে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, মাদক ও সাইবার অপরাধের চিত্র চোখের সামনে ভেসে উঠত। এগুলোর বিরুদ্ধে কাজ করার প্রবল ইচ্ছা থেকেই এই ক্যাডারের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মানুষের সবচেয়ে কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থেকেই পুলিশ ক্যাডার বেছে নিয়েছি। পদ বা পদবি নয়, একজন সৎ, দক্ষ ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই। মানুষ বিপদে পড়লে সাধারণত ডাক্তার বা পুলিশের কাছে যায়। এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে চাই, যাতে ভুক্তভোগী মানুষ পুলিশের প্রতি আস্থা পান। সততার সঙ্গে দেশের মানুষের জন্য কাজ করাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হবে।’
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ