প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 22 June 2026, 11:13 ইং
গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইন ভাঙার অভিযোগ যশোরে: প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

স্টাফ রিপোর্টার :
যশোর উপশহরে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানকে 'বেআইনি ও দানবীয়' আখ্যা দিয়ে এর প্রতিকার, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ও সর্বস্তরের ভুক্তভোগী পরিবারবর্গ। আজ সোমবার (২২ জুন, ২০২৬) যশোরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
স্মারকলিপিতে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, বিগত ১০ ও ১১ মে ২০২৬ তারিখে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ যশোর ও খুলনা অফিস যৌথভাবে কোনো প্রকার পূর্ব আইনি নোটিশ বা প্রক্রিয়া ব্যতিরেকেই উপশহর এলাকায় আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ভুক্তভোগীদের বৈধ মালিকানার নথিপত্র এবং মহামান্য আদালতের চলমান দেওয়ানি মামলার নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদকারী কর্মকর্তারা তা সম্পূর্ণ অমান্য করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আইনি নথিপত্র ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে মানুষের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মাথা গোঁজার ঠাঁই মাটির সাথে মিলিয়ে দিয়েছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসনের অভিভাবক জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার এই আইনবহির্ভূত উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে পূর্ব থেকে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন না। স্থানীয় প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারি সংস্থার এমন আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা দেশের আইনের শাসনকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এর ফলে বৈধ কাগজপত্র ও টাকা জমা দিয়েও অনেকে কষ্টার্জিত জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ার জন্য আবেদনকারীরা আজ ঠিকানাহীন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তারা কোনো আইনি প্রতিকার পাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে ভুক্তভোগী নাগরিকবৃন্দ স্মারকলিপিতে ৭টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো:
১. বিগত ১০-১১ মে ২০২৬ তারিখে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানকে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করা।
২. প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি ও বৈষম্যের দ্রুত তদন্ত করা।
৩. বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অবৈধভাবে বরাদ্দকৃত সকল প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা।
৪. বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অবৈধ এজেন্ডা বাস্তবায়ন স্থগিত করা।
৫. দীর্ঘদিনের বসবাসকারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্ব-স্ব প্লটে পুনর্বাসন করা।
৬. জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নীতিমালা মেনে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক প্লট বরাদ্দ দেওয়া।
৭. দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের আদেশ অমান্য করে, নোটিশ ছাড়া এই অভিযান পরিচালনাকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় ও আইনগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
স্মারকলিপিতে অসহায় ও মজলুম মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকারের ন্যায়বিচার ও মানবিক বিবেচনার মাধ্যমে তারা তাদের হারিয়ে যাওয়া অধিকার, জমি এবং আইনি নিরাপত্তা দ্রুত ফিরে পাবেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ