প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 12 June 2026, 15:49 ইং
বৃহত্তর যশোরের ‘মুজিব বাহিনী’ প্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি আর নেই

স্টাফ রিপোর্টার :
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বৃহত্তর যশোরের কিংবদন্তি ও মুজিব বাহিনীর প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি আর নেই। আজ ভোর সাড়ে ৬টায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
তিনি হার্ট, কিডনি ও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। বাদ আসর যশোর ঈদগাহ ময়দানে নামাজে জানাজা শেষে সদর উপজেলার গাজীপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে।
আলী হোসেন মনি ১৯৪৭ সালের ১৭ জানুয়ারি যশোর সদর উপজেলার কাজিপুর বলাডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা প্রয়াত রফিউদ্দিন এবং মাতা প্রয়াত মনোয়ার বেগম।
শিক্ষাজীবন: তিনি যশোর মুসলিম একাডেমী থেকে এসএসসি, এম এম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা (অনার্স-মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন।
ছাত্র রাজনীতি: ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। ষাটের দশকে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক (তৎকালীন সভাপতি একরামুল কবির) এবং ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
মুক্তিযুদ্ধ ও নেতৃত্ব: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ব্যাচে ভারতের দেরাদুনে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ নেন তিনি। দেশ স্বাধীনের পর বৃহত্তর যশোরে ‘মুজিব বাহিনী’র প্রধান হিসেবে বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়ে তিনি জীবন্ত কিংবদন্তিতে পরিণত হন।
স্বাধীনতার পর তিনি জাসদ প্রতিষ্ঠায় অন্যতম ভূমিকা পালন করেন এবং জেলা জাসদের সভাপতি হন। দল বিভক্ত হলে তিনি জাসদ (ইনু)-এর জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে জাসদ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও আমৃত্যু তিনি আওয়ামী লীগের সকল সাংগঠনিক ও নির্বাচনী কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে শহরের রেল বাজারস্থ নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পপুলার হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের পরামর্শে গত ৮ জুন পুনরায় তাঁকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে এনে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর সহধর্মিণী ও একমাত্র পুত্র রাজেন আলী রাজু আগেই মারা গেছেন। শেষ দিনগুলোতে কানাডা প্রবাসী একমাত্র কন্যা ফারজানা আলী দেশে ফিরে বাবার চিকিৎসাসেবা দেখভাল করছিলেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনির প্রয়াণে যশোরের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের দুর্বার দিনগুলোতে তাঁর সাহস, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের অবদান বাঙালি জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ