প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 10 June 2026, 10:55 ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক:
“আমার মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হোক, প্রকৃত অপরাধীরা শনাক্ত হোক, আর আমরা যেন ন্যায়বিচার পাই”—কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই দাবি জানিয়েছেন যশোরের এক শোকাহত পিতা মোঃ শফিকুল ইসলাম। তার দাবি, ২০ বছর বয়সী মেয়ে সাবিয়া ইয়াসমিন রিমুর মৃত্যু স্বাভাবিক নয়; বরং ঘটনাটির পেছনে রহস্যজনক ও সন্দেহজনক নানা দিক রয়েছে, যা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা জরুরি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের রায়পটন গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শিহাব শাহরিয়ার রিয়াদের সঙ্গে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে পারিবারিকভাবে সাবিয়া ইয়াসমিন রিমুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথমদিকে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও কিছুদিনের মধ্যেই দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
রিমুর বাবা মোঃ শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিয়ের পর তার মেয়ে জানতে পারে স্বামী রিয়াদের সঙ্গে তার এক আত্মীয় নারীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো। একপর্যায়ে রিমু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসে এবং দীর্ঘ প্রায় তিন মাস সেখানে অবস্থান করে।
পরবর্তীতে দুই পরিবারের মধ্যস্থতায় আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে ঈদুল আযহার সময় রিমু আবার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যায়। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই পুরোনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে বলে পরিবারের দাবি।
গত ৩ জুন হঠাৎ করে রিমুর মৃত্যুর খবর পায় তার পরিবার। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা ভিন্ন চিত্র দেখতে পান বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রিমুকে খাটের ওপর শুইয়ে রাখা হয়েছিল এবং ফ্যানের একটি পাখার সঙ্গে একটি গামছা বাঁধা ছিল।
মৃতার পিতা বলেন, “আমার মেয়ের ওজন প্রায় ৭০ কেজি। একটি ফ্যানের একটিমাত্র পাখায় ঝুলে থাকলে সেটি অক্ষত থাকার বিষয়টি আমাদের কাছে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও আমরা দেখতে পেয়েছি।”
পরিবারের দাবি, রিমুর পিঠ, কোমর, উরু ও ডান পায়ের তলায় আঘাতের চিহ্ন এবং রক্ত জমাট বাঁধার মতো দাগ ছিল। গলার অংশেও সন্দেহজনক চিহ্ন দেখা গেছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন। এসব বিষয় তাদের মনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শোকাহত পিতা মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দোষারোপ করতে চাই না। আমি শুধু চাই, আমার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনাটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা হোক। তদন্তে যদি কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
তিনি আরও বলেন, “একজন বাবা হিসেবে আমার একমাত্র দাবি, আমার মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জাতির সামনে তুলে ধরা হোক। কোনো প্রভাব, চাপ বা পক্ষপাতিত্ব যেন তদন্ত কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত না করে।”
এ ঘটনায় তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মানবাধিকার সংগঠন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় মহলে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে রিমুর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে এবং সত্য সামনে আসবে।