প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 8, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 08 June 2026, 17:22 ইং
মণিরামপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর:
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ইমামুল হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আজ সোমবার (৮ জুন) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের শরমপুর গ্রামের মতিনের দোকানের পেছনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
নিহত ইমামুল হোসেন ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসতপুর গ্রামের মৃত রহিম সরদারের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিরোধ ও শত্রুতা চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে ইমামুল হোসেন শরমপুর গ্রামের মতিনের দোকানের পেছনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে তাঁকে গুরুতর জখম করে। হামলার একপর্যায়ে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন— একই গ্রামের রবিউল (৪০), পিতা শওকত; হোসাইন (২৫) ও রাকিব (২০), পিতা এনামুল; মেহেদী (২২), পিতা খায়রুল এবং রাব্বি (১৮), পিতা মফিজুল ইসলাম। তারা সংঘবদ্ধভাবে এই হামলায় অংশ নিয়ে ইমামুল হোসেনকে নৃশংসভাবে জখম করে বলে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত ইমামুলকে উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘোষণার সাথে সাথেই স্বজনদের কান্নায় হাসপাতাল চত্বরে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর এলাকায় পৌঁছালে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা দ্রুত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
মণিরামপুর ও কোতোয়ালী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যেই পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নেমেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ