প্রিন্ট এর তারিখঃ May 26, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 26 May 2026, 09:50 ইং
যশোরে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট,কেমন চলছে কেনাবেচা ?

স্টাফ রিপোর্টার :
আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যবাহী জেলা যশোরের পশুর হাটগুলো পুরোদমে জমে উঠেছে। হাটগুলোতে দেশি, শাহীওয়াল, নেপালি ও উন্নত শঙ্কর জাতের গরুর ব্যাপক আমদানি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাঝারি গরুর পাশাপাশি হাটে আসা বিশাল আকৃতির ষাঁড়গুলো দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক দর্শনার্থীরা।
এবারের বাজারে কেনাবেচার উপযোগী ছোট আকারের গরু মিলছে ৬৫ থেকে ৮৫ হাজার টাকার মধ্যে। মাঝারি গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ এবং বড় গরুর দাম পড়ছে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা। এছাড়া কিছু বিশালাকৃতির শৌখিন গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত। শুধু গরুই নয়, ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে ৫ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন জাতের ছাগল ও ভেড়াও।
তবে বাজারে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও বিক্রেতা ও খামারিদের কপালে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ দেখা গেছে। খামারিদের দাবি, গো-খাদ্যসহ পশুর লালন-পালন খরচ কয়েক গুণ বাড়লেও বাজারে এখনো কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, যশোরের ৮টি উপজেলায় এবার মোট ১৯টি পশুর হাট বসেছে। জেলার ১৩ হাজার ৬৪০টি খামারে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৭টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। যেখানে স্থানীয় চাহিদা ১ লাখ ৩ হাজার ১২৮টি। ফলে জেলায় প্রায় ১৪ হাজার ৮৪৯টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। এই বাড়তি পশু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে পশুর হাটের শৃঙ্খলা রক্ষা ও পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিটি হাটে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, "সীমান্ত দিয়ে যাতে অবৈধভাবে কোনো ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। খামারিরা যাতে তাদের পশুর ন্যায্য মূল্য পান, আমরা তা নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।"
হাটের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে বাজার আরও চাঙ্গা হবে এবং খামারি ও ক্রেতা উভয়ই হাসিমুখে বাড়ি ফিরবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ