প্রিন্ট এর তারিখঃ May 20, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 19 May 2026, 09:11 ইং
ইরানে মার্কিন হামলা আপাতত স্থগিত, জারি হাই অ্যালার্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের ওপর পূর্বপরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ মঙ্গলবার (২০ মে) নির্ধারিত ওই হামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার স্বার্থে সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি প্রভাবশালী মিত্র দেশের শীর্ষ নেতাদের বিশেষ অনুরোধে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, চলমান আলোচনায় যদি কোনো গ্রহণযোগ্য চুক্তি বা সমঝোতা না হয়, তবে যেকোনো মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে মার্কিন সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
যদিও মার্কিন প্রশাসন এর আগে প্রকাশ্যে ১৯ মে ইরানের ওপর কোনো হামলার পরিকল্পনার কথা জানায়নি, তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তেহরানকে একাধিকবার কঠোর বার্তা দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিকল্পিত এই সামরিক হামলার বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করেননি। তবে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন—নতুন কোনো গ্রহণযোগ্য চুক্তি সম্পন্ন না হলে যেকোনো মুহূর্তে যেন ইরানের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ ও বড় আকারের বিমান বা সামরিক হামলা চালানো যায়, সেই প্রস্তুতি বজায় রাখতে।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) নেতাদের অনুরোধেই হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও ট্রাম্পের দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট যে, ইরান ইস্যুটি এখন আর কেবল মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং বৈশ্বিক কূটনীতির অন্যতম প্রধান বিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের অভিমত: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থান আবারও চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। বিশেষ করে কাতার, রিয়াদ ও আবুধাবির মতো আঞ্চলিক মিত্ররা যুদ্ধ এড়াতে ও উত্তেজনা কমাতে পর্দার আড়ালে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। তবে নতুন কোনো ফলপ্রসূ সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সময় আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আগুন জ্বলে উঠতে পারে।
সূত্রঃ এনডিটিভি
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ