প্রিন্ট এর তারিখঃ May 13, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 13 May 2026, 10:55 ইং
শার্শায় ‘আম ক্যালেন্ডার’ উপেক্ষা: কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো অপরিপক্ক হিমসাগরে সয়লাব বেলতলা বাজার

বেনাপোল (শার্শা) প্রতিনিধি ঃ
নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘন এবং উপজেলা প্রশাসনের ঘোষিত ‘আম ক্যালেন্ডার’ বা সময়সূচি তোয়াক্কা না করেই যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেলতলা বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে অপরিপক্ক হিমসাগর আম। অধিক মুনাফার আশায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও চাষি ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে কাঁচা আম পাকিয়ে বাজারজাত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির পাশাপাশি শার্শার আমের দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
মঙ্গলবার বেলতলা আম বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মণ হিমসাগর আমে বাজার সয়লাব। অথচ উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, হিমসাগর আম নামানোর নির্ধারিত তারিখ আগামী ১৭ মে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৫ দিন আগেই বাজারে এই আম আনা হয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব অপরিপক্ক আম বাজারে আসছে এবং পাইকারি দরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আড়তে পৌঁছে যাচ্ছে।
বাজারে আসা ক্রেতারা অভিযোগ করেন, এসব আমের উপরিভাগ দেখতে আকর্ষণীয় ও হলুদ হলেও ভেতরে শক্ত এবং টক। মূলত কেমিক্যাল দিয়ে পাকানোর কারণেই এমনটা হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে সাধারণ ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, আমের গুণগত মান রক্ষায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন আম বাজারজাতকরণের নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার ঘোষণা করে। নির্দেশনায় বলা হয়েছিল— ৬ মে থেকে গোবিন্দভোগ ও বোম্বাই, ১৭ মে থেকে হিমসাগর, ২৮ মে থেকে লেংড়া এবং ৬ জুন থেকে আম্রপালি ও মল্লিকা আম সংগ্রহ করা যাবে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এই নির্দেশনার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, "আম ক্যালেন্ডার উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। তবে কোনো গাছের আম যদি আগাম পেকে যায়, সেক্ষেত্রে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়ন নিয়ে বাজারজাত করা সম্ভব।" তবে বেলতলা বাজারে ব্যাপকহারে অপরিপক্ক হিমসাগর বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি 'ব্যস্ত আছেন' বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের এই নীরবতা এবং কঠোর নজরদারির অভাবে অসাধু সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে দেশখ্যাত শার্শার আমের প্রতি ভোক্তাদের আস্থা চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ