প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 22 April 2026, 10:29 ইং
শাশুড়িকে জবাই করে হত্যা, পুত্রবধু আটক
নিজস্ব প্রতিনিধি:
পারিবারিক কলহের জেরে যশোরে শাশুড়িকে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করেছে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগম। যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সকিনা বেগম ওই এলাকার বাসিন্দা লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী।
ঘটনার রাতেই জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতয়ালী থানা পুলিশ ঘাতককে আটক ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করেছে। বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এ তথ্য জানান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীব।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার নিহত সকিনার ছেলে শহিদুল ইসলামকে তার স্ত্রী মরিয়ম তাকে বাইরে খেয়ে নিতে বলেন এবং জানান বাসায় রান্না হয়নি। এ সময় মায়ের খোঁজ করলে মরিয়ম জানান, তিনি বাইরে তালিমে গেছেন। রাতে বাড়ি ফিরে শহিদুল তার মাকে না পেয়ে আবার খোঁজ নেন, কিন্তু তখনও একই কথা বলা হয়।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় শহিদুল ইসলাম থানায় গিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির সামনে একটি বস্তার ভেতরে লাশ দেখতে পান তিনি। পরবর্তীতে তিনি ও তার বোন লাশটি সকিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।
খবর পেয়ে ডিবি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার এবং আলামত সংগ্রহ করে। তদন্তে মরিয়ম বেগমের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মরিয়ম হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন পুনরায় বকাবকি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঘরে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে শাশুড়িকে জবাই করে হত্যা করেন। পরে লাশ বস্তাবন্দি করে বাড়ির সামনে ফেলে রাখেন এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি ঘরের ওয়্যারড্রপের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন।
পরে অভিযুক্তের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার ঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ