প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 12 April 2026, 13:41 ইং
যে ক্ষমতায় যায় সে রাবণ হয়ে যায়- গোলাম রসুল এমপি

স্টাফ রিপোর্টার :
"মানুষ ক্ষমতায় যাওয়ার পরে লঙ্কায়। যে যায় সে রাবণ হয়ে যায়, যেই লাউ সেই কদু হয়ে গেছে। আবারও তারা বাংলাদেশে দলীয়করণ করার জন্যে, তারা আবারও বাংলাদেশে স্বৈরাচারী সরকার হিসাবে নিজেদেরকে আগামী দিনে জনগণের সামনে পেশ করার জন্যে তারা জুলাই সনদের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, সংস্কারের বাস্তবায়ন, ক্ষমতার ভারসাম্য,জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষ, গুম ও দুর্নীতির বিচার এই আইনগুলো তারা বাতিল করে দিয়েছে।
যশোরে গণভোটের রায় কার্যকর এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে সভাপতির বক্ত্যব্যে কথা বলেন যশোর ৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল। আজ রবিবার বিকেলে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন ইতিহাসের একটি শ্রেষ্ঠতম দলীয়করণ হয়েছে বাংলাদেশের ওই সিটি কর্পোরেশনগুলোতে, জেলা পরিষদে পরিকল্পিতভাবে বিএনপি যারা হেরে গেছে তাদের পদ-পদবি দেওয়ার জন্যে পরিকল্পিতভাবে সেখানে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আমরা তাই বলতে চাই, যাদের রক্ত দিয়ে একটি বিপ্লব হলো, যে বিপ্লব যে রক্তের উপরে দাঁড়িয়ে আজকে আমরা কথা বলছি, যে রক্তের পরে দাঁড়িয়ে আজকে সংসদ গঠিত হয়েছে, আজকে ক্ষমতায় গিয়ে তারা ভুলে গিয়েছে জনগণের সেই দাবি। জনগণ কেন ভোট দিয়েছিল? ৭১% মানুষ ভোট দিয়েছিল সংবিধান সংস্কারের জন্যে, সংশোধনের জন্যে নয়। বাংলাদেশের ৭২-এর যে সংবিধান ছিল সেই সংবিধান দেশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই জন্যে আমাদের দাবি ছিল সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার করতে হবে। যে ধারাগুলো রহিত করলে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, স্বৈরাচারী কোনো সরকার আর বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে না—সেই ধারাগুলো রহিত করে সংসদে আইন পাশ করতে হবে।
বিএনপি সরকার সেগুলো আজকে আমাদের সংসদে উত্থাপন করে নাই। কাজেই তারা স্বৈরাচারী সরকার হিসাবে আবির্ভূত হয়ে বাংলাদেশের মানুষের কাছে আবারও যাতে মানুষের ওপর অবিচার-অত্যাচার করতে না পারে, যার কারণে ১১ দলীয় জোট সংসদের ভিতরে এবং বাইরে আজকে আন্দোলন করছে, আজকে মিছিল করছে জনগণের সেই দাবি দাওয়াগুলোর জন্যে। কাজেই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব ইনশাআল্লাহ।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের সেরোটারি আবু জাফর সিদ্দিকী, যশোর সরকারি এমএম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, জেলা দপ্তর সম্পাদক নুর-ই আলী নুর মামুন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশেম রেজা, এনপিপির প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যশোর জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা বেলায়েত হুসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির যশোর জেলার সভাপতি রাজ্জাকুল ইসলাম, যশোর শহর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা ইসমাঈল হোসেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ