প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 05 April 2026, 12:32 ইং
বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে যশোরের সাংস্কৃতিক কর্মীরা

স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে যশোরের সাংস্কৃতিক কর্মীরা। ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা, লোকজ আচারানুষ্ঠান। নতুন বর্ষকে খাঁটি বাঙালিয়ানায় বরণকরে নিতে দিনরাত ব্যস্তসময় পার করছেন জেলার সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরই যশোরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলা বর্ষবরণে নানা আয়োজন করে থাকে। এবছরের প্রস্তুতিও আশাব্যঞ্জক। জেলার প্রায় ৩০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলা নববর্ষকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চালাচ্ছে। শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে হাতি ঘোড়ার প্রতিকৃতি, মুখোশ, পাপেট, ফেস্টুন তৈরির কাজ চলছে। পহেলা বৈশাখে নগরবাসীকে উৎসবে মাতিয়ে তুলতেই এমন আয়োজন, বলছেন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা।
চারুতীর্থ যশোরের শিক্ষক নীলজয় বলেন এ বছর আমরা মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য বিভিন্ন ধরনের মুকুট,পেঁচা, গিরগিটি, বাঘের মুখোস, রাজা-রানী বানিয়েছি। আমাদের চিন্তা হচ্ছে প্রকৃতি নিয়ে। বছরের প্রস্তুতি আমাদের শেষের দিকে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে উপস্থাপন করব।
সাংস্কৃতিক কর্মী সীমান্ত হরি বলেন, প্রথম কথা হল কাজের তো কোন শেষ নাই। বড়সড় ভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম অনেক আগেই। এ কারণে আমাদের আগেভাগেই কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন শুধু ফিনিশিং বাকি আছে। এছাড়া কিছু বড়বড় আইটেম বাকি আছে। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা আরো আনন্দময় হবে এ প্রত্যাশা আমাদের।
চারুতীর্থ যশোরের সাধারণ সম্পাদক সজল ব্যানার্জী বলেন, চারুতীর্থ প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ব্যাপক আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে। বাংলা নববর্ষ কে বরন জন্য এবারের প্রস্তুতিটা ছিল অনেক আগেভাগেই। যাতে করে শেষের দিকে প্রেসার না থাকে। কাজ চলমান আছে। আমাদের এবছরের শোভাযাত্রার থিমটি হচ্ছে প্রকৃতি নিয়ে। প্রকৃতি বলতে হচ্ছে বিভিন্ন প্রকৃতির থিমটি সবার মাঝে তুলে ধরা। সবচেয়ে আকর্ষণ থাকবে সূর্য, গাছ, পাখি। এই প্রকৃতি গুলো মানুষের কথা বলবে। হাঁটবে হাতপা নাড়াবে। এর একটাই কারণ হচ্ছে আমাদের পৃথিবীতে যেভাবে গাছগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির সব প্রাণীগুলো ভয়ের মধ্যে আছে। এসব প্রাণীগুলো হুমকির মুখে এরা কোথায় যাবে।
বর্ষবরণ শোভাযাত্রার উদ্ভাবক মাহবুব জামাল শামীম বলেন, এবার মঙ্গল শোভাযাত্রার থিমটা থাকছে নিত্য নতুনের অমৃতধারা। আমরা আবার নতুন করে সবকিছু শুরু করতে যাচ্ছি। এবারে মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিভিন্ন পারফরমেন্সে সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য থাকছে বিশেষ পুরস্কার। এই উৎসবে আমরা কোন রাজনীতি আনতে চাইনি। একটা সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মঙ্গল শোভাযাত্রাকে রাজনীতি বানাই ফেলছিল। কিন্তু এই শোভাযাত্রাটা হওয়ার কথা ছিল ধর্মমত নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে। আমাদের শোভাযাত্রা টা যেন কোন দলের কথা না হয়ে ওঠে। আর বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের বার্তা থাকবে মিসাইল বোমার পরিবর্তে প্রকৃতিটা সবুজে সুফলে ভরে উঠুক।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ