প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 31, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 31 March 2026, 08:43 ইং
যশোরে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল ও হামলার অভিযোগ: দেশত্যাগের হুমকি

স্টাফ রিপোর্টার :
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া গ্রামে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি দখল, শারীরিক নির্যাতন এবং দেশত্যাগের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার এই অভিযোগ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী অজয় কুমার মিত্র। তিনি জানিয়েছেন, উপজেলার ঢাকুরিয়া গ্রামে তাঁদের পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ১ একর ৫৪ শতাংশ জমি ১৯০৩ সাল থেকে তাঁদের ভোগদখলে রয়েছে। তবে ১৯২৭ সালের রেকর্ডে স্থানীয় মফিজুর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা অবৈধভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। এ নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১২ সালে আদালত বিবাদীদের দাবি খারিজ করে দিলেও জমি নিয়ে বিরোধ মেটেনি।
অজয় কুমার মিত্র অভিযোগ জানিয়েছেন, আদালতের রায় আমাদের পক্ষে থাকলেও মফিজুর ও তাঁর দলবল ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
গত ২৯ মার্চ ওই জমির দুটি বড় শিশু গাছ ভেঙে পড়ে। পরের দিন সকালে মফিজুর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গাছগুলো কাটতে শুরু করেন। আমরা বাধা দিতে গেলে তাঁরা আমাদের ওপর চড়াও হয় এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে বেদম মারপিট করে।
হামলায় অজয় কুমার মিত্র নিজে রক্তাক্ত জখম হওয়ার পাশাপাশি তাঁর বৌদি রিতা মিত্র ও ভাইপো বাঁধন মিত্র আহত হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছন। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার একপর্যায়ে মফিজুর তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছন। অন্যথায় তাঁদের হত্যা করা হবে এবং ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর আহতরা মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে মনিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অশোক কুমার মিত্র, অলোক কুমার মিত্র ও অসীম কুমার মিত্রসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের জানমালের নিরাপত্তা এবং পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ