প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 03 March 2026, 08:17 ইং
ভবদহের প্রভাব: জলাবদ্ধতায় কৃষকের ১৩ হাজার বিঘায় হয়নি বোরো আবাদ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুরে জলাবদ্ধতায় প্রায় ১৩ হাজার বিঘা জমিতে কৃষক বোরো আবাদ করতে পারেননি। ভবদহের প্রভাবে উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছেন নদ-নদী খনন শুরু হয়েছে। আগামীতে কেশবপুরের জলাবদ্ধতা থাকবেনা। তখন কৃষকের ফসল আবাদে কোন সমস্যায় পড়তে হবে না। তবে ২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির নেতৃবৃন্দ বলছেন, নদ-নদী খননের পাশাপাশি ভবদহ এলাকায় জোয়ার আধার (টিআরএম) চালু না করা হলে কয়েক বছরের মধ্যে আবারও নদ-নদী পলিতে ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতা শুরু হয়ে যাবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভবদহের প্রভাবে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চলতি বোরো মৌসুমে কেশবপুরের সুফলাকাটি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৩৬০ বিঘা, পাঁজিয়া ইউনিয়নে ২ হাজার ৪৯৭ বিঘা, গৌরীঘোনা ইউনিয়নে ৩৭ বিঘা, মঙ্গলকোট ইউনিয়নে ৪১২ বিঘা, কেশবপুর ইউনিয়নে ২২৫ বিঘা ও পৌর এলাকায় ১৫ বিঘা জমিতে কৃষক বোরো আবাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এলাকার নদ-নদীতে পলি ভরাটের পাশাপাশি অপরিকল্পিত মাছের ঘের তৈরি হওয়াতে পানি নিষ্কাশনে বাধাগ্রস্থ হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা, মনোহরনগর, সুফলাকাটি ইউনিয়নের কালীচরণপুর ও বিল খুকশিয়া জলাবদ্ধ হয়ে রয়েছে। বাগডাঙ্গা গ্রামের কৃষক বিষ্ণুপদ রায় বলেন, উঠান থেকে পানি সেচ দিয়ে সরাতে হচ্ছে। আর বিলে ১০ থেকে ১২ বছর ফসল হয় না। তাদের এলাকার মানুষের বাড়িতে পানি থাকে বছরের প্রায় ৬ মাস। মনোহরনগর গ্রামের কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী দিথী সরকার ও অনন্যা হালদার বলেন, প্রতি বছর জলাবদ্ধতার কারণে এক ঘেয়েমি হয়ে গেছি। এ অবস্থার মধ্যে শারীরিক ও মানুষিক দিক দিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়।
কালীচরণপুর গ্রামের কৃষক রণজিৎ মল্লিক বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে তাদের বিল এলাকায় গত ১৪ থেকে ১৫ বছর বোরো আবাদ হয়নি। বোরো আবাদ না হওয়ায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দেয়। যে কারণে গোয়ালের গরু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছি। একই গ্রামের বাসিন্দা চন্দ্রনা মল্লিক বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে এলাকার পরিবেশ হয়ে পড়েছে স্যাঁতসেঁতে ও কলুষিত।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ হোসেন বলেন, নদ-নদী খনন শুরু হয়েছে। খনন শেষে ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা আর থাকবে না। তখন কৃষক সুষ্ঠুভাবে বোরো আবাদসহ অন্যান্য ফসল ফলাতে পারবেন। তবে ২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহবায়ক বাবর আলী গোলদার বলেন, নদ-নদী পলিতে ভরাট হওয়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতা শুরু হয়। এ বছর নদ-নদী খনন শুরু হয়েছে। নদ-নদী খননের পাশাপাশি ভবদহ অঞ্চলের যে কোন একটি বিলে টিআরএম চালু হলে নদ-নদীতে স্রোত বৃদ্ধি পেয়ে জলাবদ্ধতা নিরশনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। যদি টিআরএম চালু না হয় তা হলে কয়েক বছরের মধ্যে নদ-নদী আবারো পলিতে ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতা শুরু হয়ে যাবে।
কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, এ বছর ভবদহ অঞ্চলের কেশবপুর অংশের সুফলাকাটি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৩৬০ বিঘা, পাঁজিয়া ইউনিয়নে ২ হাজার ৪৯৭ বিঘা, গৌরীঘোনা ইউনিয়নে ৩৭ বিঘা, মঙ্গলকোট ইউনিয়নে ৪১২ বিঘা, কেশবপুর ইউনিয়নে ২২৫ বিঘা ও পৌর এলাকায় ১৫ বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে। যে কারণে কৃষক ওই এলাকায় বোরো আবাদ করতে পারবেন না। তবে চলতি মৌসুমে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৭৫০ হেক্টর আবাদ হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ