প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ 02 March 2026, 10:56 ইং
খামেনি হত্যার পর মার্কিন কংগ্রেসে পেন্টাগনের গোপন স্বীকারোক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার আগে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো হামলার পরিকল্পনা করছিল— এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে মার্কিন কংগ্রেসকে জানিয়েছে পেন্টাগন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
রয়টার্স জানায়, মার্কিন কংগ্রেসের একটি রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রক্সি বাহিনীগুলো মার্কিন স্বার্থের জন্য দীর্ঘমেয়াদী হুমকি ছিল ঠিকই, কিন্তু তেহরান তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন বাহিনীর ওপর বড় ধরনের কোনো হামলার ছক কষছিল— এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য তাদের কাছে ছিল না। এই ব্রিফিংয়ের বিষয়ে অবগত দুজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।
পেন্টাগনের এই নতুন তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের আগের করা দাবির ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন ছুড়ে দিয়েছে। এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, মার্কিন বাহিনীর ওপর একটি ‘প্রতিরোধমূলক’ (Pre-emptive) হামলা চালানোর খুব কাছাকাছি ছিল তেহরান। পেন্টাগনের বর্তমান স্বীকারোক্তি সেই দাবিকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত শনিবার থেকে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যৌথ হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মুহুর্মুহু আঘাতে তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। রোববার সকালে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর পুরো ইরানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খামেনির ছবি হাতে হাজার হাজার মানুষকে রাস্তায় বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর ইরানের শাসনভার আপাতত তিন সদস্যের একটি কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট। ইরানও বসে নেই; তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ফলে গোটা পশ্চিম এশিয়া এখন এক মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।
পেন্টাগনের এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক মহলে মার্কিন হামলার নৈতিকতা ও গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বপ্নভূমি নিউজ